This website is under development. Some features and content may not be fully available yet. Thank you for your patience and support.
রমাদান ধারাবাহিক | পর্ব ৯
সিয়াম ও দুয়া
RAMADAN
Umm Ayman
2/26/20261 min read
সিয়াম ও দুয়া
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
রমাদান মাস ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের মাস। আর সিয়ামরত অবস্থায় দুআ করা হলো অত্যন্ত মূল্যবান একটি আমল। রোজাদারের দুআ বিশেষভাবে কবুল হয় — এটি আমাদের জন্য এক মহা সুসংবাদ।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মুহাম্মদ ﷺ বলেছেন:
“তিন ব্যক্তির দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না:
১) রোজাদারের দুআ — ইফতার করা পর্যন্ত,
২) ন্যায়পরায়ণ শাসকের দুআ,
৩) মাজলুমের (অত্যাচারিতের) দুআ।
আল্লাহ তাআলা তাদের দুআ মেঘমালার উপরে উঠিয়ে নেন, আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং আল্লাহ বলেন: ‘আমার ইজ্জতের কসম! বিলম্বে হলেও আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করবো।’” --- মুসনাদে আহমাদ (৯৭৪৩), জামে তিরমিযি (৩৪২৮), ইবনে মাজাহ (১৭৫২)
রমাদানে কী কী বিষয়ে দুআ করবেন?
প্রয়োজনীয় দুয়া গুলোকে নিম্নলিখিত ভাবে কয়েকটি শিরোনামে ভাগ করে নেয়া যেতে পারে। যেমন :
• দ্বীনের জন্য দুআ: রমাদান হলো আত্মশুদ্ধি ও সংশোধনের মাস। তাই প্রথমেই আমাদের উচিত দ্বীনের উন্নতির জন্য দুআ করা। দ্বীন এর যে কোন দিক যা এখনও করা হয় নাই বা আয়ত্বে আনা হয় নাই তা উল্লেখ করে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দুআ করুন। যেমন মনে করুন আপনার এখনও হজ্জ বা উমরাহ পালন করা হয় নাই। দোয়া করুন আপনি যেন আগামী রমাদানের আগে তা করতে পারেন। মনে রাখুন আল্লাহর জন্য কোন কিছুর ব্যবস্থা করা কঠিন না। কোন একটা খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করতে চান (ধুমপান বা পান খাওয়া) অথবা কোন আমল(যেমন ,মসজিদে নামায পড়া বা তাহাজ্জুদ ) রেগুলার করতে চান রমাদান থেকে তা শুরু করুন এবং রমাদান এর পরও যেন করতে পারেন সেই জন্য আল্লাহর সাহায্য চান।
• ২। দুনিয়ার জন্য দুআ: আল্লাহ আমাদের পার্থিব জীবনের জন্য দুআ করতে শিখিয়েছেন। পবিত্র কুরআন-এ আল্লাহ বলেন:
“রব্বানা আতিনা ফিদ্ দুনইয়া হাসানাহ, ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাহ...”
(হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতে কল্যাণ দান করুন।)— সূরা বাকারা, ২:২০১
জানামতে সবচেয়ে উত্তম দুআ। বিবাহ, জব বা বাড়ি দরকার, আল্লাহর কাছে আপনার প্রয়োজন উল্লেখ করে আল্লাহর কাছে দুআ করেন। আল্লাহ দেয়ার ক্ষমতা অফুরন্ত।এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ দুআ।
আপনার প্রয়োজন হতে পারে:
সৎ জীবনসঙ্গী
হালাল রিযিক বা চাকরি
একটি বাড়ি
সন্তানের হেদায়েত
আপনার প্রয়োজন আল্লাহর কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরুন। তাঁর দানের ভাণ্ডার অফুরন্ত।
• ৩।আখিরাতে জন্য দুআ:
"................আখিরাতে কল্যান দান করুন "[সুরা বাকারাহ,২:২০১]
যেহেতু আমাদের চূড়ান্ত গন্তব্যস্থল হলো পরবর্তী জীবন, তাই আমাদের দুআর একটা বড় অংশ উচিত আখিরাতের কল্যান কামনা করা। আখিরাতে আমাদের জীবন যেন উপভোগ্য হয় সেই জন্য আপনি কি কি জিনিস জান্নাতে চান তা উল্লেখ করে দুআ করা। আপনি কি জান্নাতে নবী (সা:), আবু বকর (রা:) উমর (রা:) এবং অন্যান্য সাহাবাদের সাথে একই আসরে বসতে চান এবং তাদেরকে বন্ধু হিসাবে চান তাহলে সেই জন্য দুআ করুন। অথবা জাহান্নামের যে অংশ নিয়ে আপনি বিশেষভাবে আতঙ্কযুক্ত তা থেকে পানহ চেয়ে দুআ করুন।
• ৪। অন্যদের জন্য দুআ:
রমাদান স্বার্থপরতার সময় না। এ কারণে আল্লহ জাকাত আল ফিতর প্রদান; এবং তারাবীহ ও ঈদের সলাতে আমাদের একত্রিত করার মাধ্যমে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হবার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। সুতরাং যখন আপনি রমাদান এ নিজের জন্য এবং নিজের পরেবারের জন্য দোয়া করার পরিকল্পনা করছেন তখন আপনি অন্যদের কথা স্মরণ করুন এবং তাদের জন্যও দুআ করুন। মুসলিম উম্মাহ ও আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যারা চেষ্টা করছেন তাদের জন্য দুআ করুন। আত্নিয়স্বজন এবং আপনার মুসলিম ভাই বোনেরা যারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয়ে দুআ করার অনুরোধ করেন তাদের জন্য দুআ করুন. মনে রাখবেন, অন্যের জন্য দুআ করলে ফেরেশতা বলেন: “তোমার জন্যও তেমনটি হোক।”
ইফতারের আগে কয়েক মিনিট — হতে পারে আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সময়। এই রমাদানে প্রতিদিন অন্তত একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন — শুধু দুআর জন্য। আল্লাহ আমাদের সিয়াম কবুল করুন এবং আমাদের দুআগুলো কবুল করুন। আমীন।
