This website is under development. Some features and content may not be fully available yet. Thank you for your patience and support.
রমাদান ধারাবাহিক |পর্ব ৮
একটি অবহেলিত ফরয কাজ: সেটা কি?
RAMADAN
Umm Ayman
2/25/20261 min read
একটি অবহেলিত ফরয কাজ: সেটা কি?
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
আজকের লেখাটা শুরু করি ছোট একটি প্রশ্ন দিয়ে—
সলাত, সাওম, যাকাত, হজ্জ এগুলো ফরয ইবাদত আমরা সবাই জানি এবং করার চেষ্টা করি। কিন্তু একটা ফরয কাজ এর ব্যপারে আমরা কোন গুরুত্ব দেই না এবং চেষ্টাও করি না। বলেন তো সেটা কি?
উত্তর: অবহেলিত ফরয কাজটি হলো ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন, যা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরয।
আনাস বিন মালিক (রা:) থেকে বর্ণিত, রসূল (সা:) বলেছেন:
طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِم
অর্থ: জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক (كُلِّ) মুসলিমের জন্য ফরয।— ইবনু মাজাহ
এখানে জ্ঞান অর্জন বলতে ইসলামের জ্ঞান অর্জন করা বুঝানো হয়েছে।
আল্লাহ সুবহানাতাআ'লা বলেন:
فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ۗ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ
অর্থ: ‘আর যেন রাখ (মুহাম্মাদ) নি:সন্দেহে আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নাই, ক্ষমা প্রার্থনা কর তোমার ভূলত্রুটির জন্য আর আর মুমিন ও মুমিনাদের জন্য, আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি ও অবস্হান সম্পর্কে অবগত’ —সুরা মুহাম্মাদ, ৪৭:১৯
ইমাম বুখারী(রহ:) ও অন্যান্যরা বলছেন: এই আয়াতে প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তা'আলা আমল করার পূর্বে তাঁর সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করাকে ফরয করেছেন। কারণ এই আয়াতে ইলম অর্জন ( فَاعْلَمْ) করা তাওবার আগে (وَاسْتَغْفِرْ) এসেছে, আর তাওবা একটি আমল বা ইবাদত। ইমাম বুখারী (রহঃ) ছহীহ বুখারীতে ‘কথা ও কাজের পূর্বে জ্ঞান অর্জন করা’ শিরোনামে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন এবং তার প্রমাণে কুরআনুল কারীমের উপরোক্ত আয়াতটি নিয়ে এসেছেন।
ইবাদতের শুদ্ধতা দুই শর্তে নির্ভরশীল:
সলাত, সাওমা, হজ্জ, যাকাত, পর্দা, দীন ইসলামের জ্ঞান প্রচার করা সবই ইবাদত আর সাওয়াবের কাজ। আর আর আমাদের কোন ইবাদত কেবল তখনই কবুল হবে যখন ইবাদতটি দুটি শর্ত অনুযায়ী হবে
প্রথম শর্ত: ইবাদত হতে হবে একমাত্র আল্লাহর জন্য। ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক করা যাবে না। ইবাদতে যদি শিরক থাকে তাহলে সেই ইাবাদত বাতিল হয়ে যায়। যেমন অপবিত্রতা কোন পবিত্র জিনিসকে অপবিত্র করে দেয়। তেমনিভাবে, আপনি যদি ইবাদত করার সময় আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক করেন বা ইবাদতের পরে শিরক করেন, তবে আপনার ইবাদত বাতিল হয়ে যাবে।
দ্বিতীয় শর্ত: রসূল(সা:)এর অনুসরণ। ইবাদতটি হবে আল্লাহর রসূলের তরিকা অনুযায়ী। কোন ইবাদত যা রসূল (সা:) এর শেখানো অনুযায়ী নয়, তা বাতিল হিসাবে গন্য হবে। রসূল (সা:) বলেছেন,
"যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ ইবাদত হিসাবে করে যা দ্বীনে নাই তা বাতিল।" —সহীহ মুসলিম
আশা করছি এখন বুঝতে পেরেছেন কেন জ্ঞান অর্জন করা আমলের আগে ফরয করা হয়েছে। আপনি যদি না জানেন আল্লাহর রসুল ﷺ কীভাবে ইবাদত করতেন, তাহলে কীভাবে আপনি তাঁর অনুসরণ করতে পারবেন এবং আপনার ইবাদত শুদ্ধ হবে?
তাই আসুন, এই রমাদানে আমরা জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব বুঝি এবং খুঁজে বের করি যে একজন মুসলিম হিসেবে আমি কোন শ্রেণির ছাত্র—গ্রেড ১ নাকি গ্রেড ২। আজকাল ইন্টারনেটের যুগে আমাদের পক্ষে অনেক বই না কিনেও পড়া সম্ভব। আজ মোটামুটি সবার কাছেই রয়েছে স্মার্ট ফোন যা আপনি অনেক ভালো কাজে এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। এখনই পরিকল্পনা করি রমাদানের পর আমরা কীভাবে আমাদের জ্ঞান অর্জনের যাত্রা চালিয়ে যাব।
