This website is under development. Some features and content may not be fully available yet. Thank you for your patience and support.

রমাদান ধারাবাহিক | পর্ব ৭

সিয়ামের বিধান

RAMADAN

Umm Ayman

2/24/20261 min read

সিয়ামের বিধান


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

মহান আল্লাহ তাআ'লা আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমাদের জন্য বিধান প্রবর্তন করেছেন। তাঁর প্রতিটি হুকুম ও বিধানের মধ্যে রয়েছে পরিপূর্ণ হিকমত ও প্রজ্ঞা। ইসলাম কোনো আকস্মিক বা উদ্দেশ্যহীন জীবনব্যবস্থা নয়; বরং এটি এমন এক দিকনির্দেশনা, যা মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিশ্চিত করে।

আল্লাহ তা‘আলা আমাদের জন্য নানাবিধ ইবাদত নির্ধারণ করেছেন, যাতে জীবনের প্রতিটি দিক তাঁর আনুগত্যে আবদ্ধ থাকে। আল্লাহ তা‘আলা ইবাদতের মধ্যে নানা বৈচিত্র্য রেখেছেন:

  • কোনো কোনো ইবাদতকে সম্পৃক্ত করেছেন দেহের সঙ্গে, যেমন সালাত।

  • কোনো কোনো ইবাদতকে সম্পৃক্ত করেছেন নফসের প্রিয় সম্পদ ব্যয়ের সঙ্গে, যেমন যাকাত।

  • কোনো কোনো ইবাদতে শরীর ও সম্পদ উভয়ই সম্পৃক্ত, যেমন হজ ও জিহাদ।

  • কোনো কোনো ইবাদত সম্পৃক্ত লোভনীয় ও প্রিয়বস্তু থেকে নফসকে বিরত রাখার সঙ্গে, যেমন সিয়াম।

প্রতিটি ইবাদত আমাদের পরীক্ষা করে— আমরা কাকে প্রাধান্য দিই? রবকে, না নিজের নফসকে? সকল ইবাদতের মধ্যে আল্লাহ তাআলা সিয়ামকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ হাদীসে কুদসিতে বর্ণনা করেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

“আদম সন্তানের প্রতিটি আমল তার নিজের জন্য; তবে সিয়াম ব্যতীত। কারণ সিয়াম আমার জন্য, আর আমিই এর প্রতিদান দেব।” এই হাদীস বর্ণিত হয়েছে সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম-এ।

সিয়াম ফরয হওয়ার বিধান

১ম পর্যায়: সিয়াম ছিল ঐচ্ছিক (ইচ্ছাধীন)

শুরুতে মুসলমানদের জন্য সিয়াম পালন বা ফিদয়া প্রদান—দুইটির অনুমতি ছিল।
যারা সক্ষম হয়েও সিয়াম রাখতে চাইতেন না, তারা একজন দরিদ্রকে খাদ্য প্রদান করতেন। তবে সিয়াম পালন করাই উত্তম ছিল।

এই বিধান নাযিল হয়েছিল সূরা আল-বাকারার ১৮৪ নং আয়াতে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

﴿ وَعَلَى ٱلَّذِينَ يُطِيقُونَهُۥ فِدۡيَةٞ طَعَامُ مِسۡكِينٖۖ ﴾
“আর যাদের জন্য তা কষ্টকর হবে, তাদের কর্তব্য ফিদয়া—একজন দরিদ্রকে খাদ্য প্রদান।”
(সূরা আল-বাকারা: ১৮৪)

সহীহ হাদীসে এসেছে, সালমা ইবনে আকওয়া (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) বলেন, এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর কেউ চাইলে সিয়াম ভঙ্গ করে ফিদয়া দিতেন। হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম গ্রন্থে।

২য় পর্যায়: সিয়াম ফরয (বাধ্যতামূলক) করা হয়

পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা আরেকটি আয়াত নাযিল করেন, যার মাধ্যমে আগের অবকাশ রহিত হয় এবং সিয়াম সবার উপর ফরয হয়ে যায় (যারা সক্ষম)। সিয়াম ফরয হয়েছিল সূরা আল-বাকারার ১৮৫ নং আয়াতে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

﴿فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ ٱلشَّهۡرَ فَلۡيَصُمۡهُۖ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوۡ عَلَىٰ سَفَرٖ فَعِدَّةٞ مِّنۡ أَيَّامٍ أُخَرَ﴾
রমাদা মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে তবে অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের সহজ চান এবং কঠিন চান না। আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূরণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন, তার জন্য আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা শোকর কর।সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৫)

এই আয়াতের মাধ্যমে সিয়ামকে ফরয করা হয় এবং পূর্বের সাধারণ অবকাশ রহিত করা হয়। (অবশ্য অসুস্থ ও মুসাফিরের জন্য অব্যাহতি দেয়া হয়েছে যে, সে তখন সাওম না রেখে বরং সুস্থ হওয়ার পর অথবা সফর শেষ হওয়ার পর ততদিনের সাওম কাযা করে নেবে

আর সিয়াম ততক্ষণ ফরয হবে না, যতক্ষণ রমযান মাস প্রমাণিত না হয়। তাই মাস শুরু হওয়ার আগেই সাওম শুরু করা যাবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

‘তোমাদের কেউ যেন রমযানের আগের এক বা দুই দিন সিয়াম পালন না করে, তবে পূর্ব থেকে কারো সিয়াম পালনের অভ্যাস থাকলে, সে ওই সিয়াম পালন করতে পারবে।’[ বুখারী: ১৯১৪; অনুরূপ মুসলিম: ১০৮২]

আমাদের সৃষ্টি উদ্দেশ্যপূর্ণ। শরীয়ত প্রজ্ঞাপূর্ণ।ইবাদত বৈচিত্র্যময়। আর সিয়াম—সেগুলোর মধ্যে বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন এক ইবাদত। যেমন আমাদের ঘরের গাড়ি বা যন্ত্রপাতি নিয়মিত পরিচর্যা দরকার হয়, ঠিক তেমনি আমাদের নফসকেও নিয়ন্ত্রণ ও পরিচর্যা প্রয়োজন। নফসকে সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ না করলে, সে আমাদের পথভ্রষ্ট করে দিতে পারে। রমাদান মাস সেই বিশেষ সুযোগ, যখন আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নফসের প্রশিক্ষণ ও আত্মশুদ্ধির তাওফীক দান করেন।


সিয়াম শুধু খাওয়া-দাওয়া থেকে বিরত থাকা নয়; এটি আমাদের অন্তরের নিয়ন্ত্রণ, ধৈর্য ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি উচ্চ পর্যায়ের ইবাদত। আল্লাহ আমাদেরকে নফস নিয়ন্ত্রণ করতে, প্রতিটি পরীক্ষায় সফল হতে এবং তাঁর ইবাদত যথাযথভাবে পালন করার তাওফীক দান করুন। আমীন।