This website is under development. Some features and content may not be fully available yet. Thank you for your patience and support.

রমাদান ধারাবাহিক | পর্ব ৫

সাহুরের সময়, ফজিলত ও সুন্নাত পদ্ধতি

RAMADAN

2/22/20261 min read

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

আজ আমরা সাহুরের সময়কে কীভাবে ইবাদতে কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে বিস্তারিত জানব।

রাতের শেষ তৃতীয়াংশ এ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আরশ থেকে প্রথম আসমানে নেমে আসেন এবং বান্দাদেরকে আহ্বান করেন:

"এখন যে ব্যক্তি আমার কাছে দু‘আ করবে, আমি তা কবূল করব; যা কিছু কাছে চাইবে, আমি তাকে তা দেব; এবং যে আমার কাছে মাফ চাইবে, আমি তাকে মাফ করে দেব।"
— বুখারী-৬৩২১, মুসলিম-৭৫৮

অতএব, এই সময়ে কুরআন অধ্যয়ন, তিলাওয়াত, তাহাজ্জুদের সলাত আদায়, তাওবাহ-ইস্তিগফার ও দু‘আ করা এক উত্তম সময়।

সাহুরের সুন্নত


১। সাহুরে খেজুর খাওয়া

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর দিয়ে সাহুর গ্রহণের প্রশংসা করে বলেছেন:

“মুমিনদের খেজুর দিয়ে সাহরী গ্রহণ কতই না উত্তম।”
— [আবু দাউদ]

খেজুর সহজপাচ্য, পুষ্টিকর এবং বরকতময় খাদ্য—সাহুরে এটি গ্রহণ করা সুন্নত।

২। সাহুর শেষ মুহূর্তে খাওয়া

সুন্নাত হচ্ছে সুবহে সাদিক উদয়ের আগ পর্যন্ত বিলম্ব করে সাহুর খাওয়া। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনই করতেন। আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন,

"আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও যায়েদ ইবন সাবেত সাহুর গ্রহণ করলেন। যখন সাহরী গ্রহণ করা শেষ করার পর আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘সালাতের দিকে’ (চল)। তারপর তিনি সালাত আদায় করলেন। আমরা আনাসকে বললাম, তাঁদের সাহরী শেষ করা ও সালাতে প্রবেশ করার মধ্যে কত সময় ছিল? তিনি বললেন, ‘একজন লোক পঞ্চাশ আয়াত পড়ার মত সময়’।—বুখারী

সেহরী খাওয়ার শেষ সময় হলো সুবহে সাদিক উদয় হওয়া। এ শেষ সময় পর্যন্ত সাহুর খাওয়া বিলম্বিত করাই সুন্নাত। তিনি সাহুর খাবার জন্য যেমন তাগিদ দিয়েছেন তেমনি ইহা বিলম্বিত করে শেষ মুহূর্তে খাবার গ্রহণের জন্যও উৎসাহ প্রদান করেছেন। সুবহে সাদিক উদয় হবার বহু পূর্বে প্রায় মধ্য রাতে সাহুর খাওয়া ইসলামে পছন্দনীয় কাজ নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাগিদ করেছেন, “তাছাহহারু ফি আমেরীল লাইলে” অর্থাৎ তোমরা রাত্রির শেষ দিকে সেহরী গ্রহণ করো।

অতএব, মধ্যরাতে সাহুর খাওয়া সুন্নতসম্মত নয়। বরং রাত্রির শেষভাগে সাহুর গ্রহণ করাই উত্তম। এতে ফজরের সালাত জামাতে আদায় করাও সহজ হয়।

আল্লাহ তাআলা সূরা আল-বাকারাহর ১৮৭ নম্বর আয়াতে রোজার সময়সীমা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন—

আর আহার কর ও পান কর যতক্ষণ না ফজরের সাদা রেখা কাল রেখা থেকে স্পষ্ট হয়। অতঃপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর।দিয়েছেন। [সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৭]

এখানে রাতের অন্ধকারকে কালো রেখা এবং ভোরের আলোকে সাদা রেখা হিসেবে তুলনা করে রোজা শুরু ও খাওয়াদাওয়ার সীমা বোঝানো হয়েছে।

“আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাতের কালোরেখা থেকে ঊষার সাদা রেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রকাশ না হয়।”
— [সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৭]

এইভাবে আল্লাহ তাআলা রাতের অন্ধকারকে কালো রেখা এবং ভোরের আলোকে সাদা রেখা হিসেবে তুলনা করে রোজা শুরু ও খাওয়াদাওয়ার সীমা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

সাহুর কেবল পেট ভরার সময় নয়—এটি এমন এক মুহূর্ত, যখন আকাশের দরজা খোলা থাকে, রহমতের বৃষ্টি ঝরে, আর বান্দার দু‘আ কবূল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

আল্লাহ আমাদেরকে রাতের শেষ প্রহরে তাঁর স্মরণে দাঁড়ানোর, আন্তরিকভাবে দু‘আ করার এবং সুন্নাহ অনুযায়ী সাহুর পালন করার তাওফিক দান করুন।

আমীন, ইয়া রব্বাল ‘আলামীন।