This website is under development. Some features and content may not be fully available yet. Thank you for your patience and support.
রমাদান ধারাবাহিক | পর্ব ৪
সাহূর ও সাওমের নিয়ত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
RAMADAN
2/21/2026
সাহূর (সেহেরী) ও সাওমের নিয়ত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
আজ আমরা সাহূর (সেহেরী) সম্পর্কে বিস্তারিত জানব, ইনশাআল্লাহ।
সাহূর (سُحُور) বলা হয় রাতের শেষাংশের সেই খাবারকে, যা ফজরের আগে সিয়াম পালনের উদ্দেশ্যে খাওয়া হয়। একে সাহূর বলা হয়, কারণ এটি ‘সাহর’—অর্থাৎ রাতের শেষ প্রহরে অনুষ্ঠিত হয়।
সাওমের নিয়ত কীভাবে করব?
রমাদান এলে অনেকের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন আসে— সাওমের জন্য কীভাবে নিয়ত করতে হবে? নিয়ত কি মুখে উচ্চারণ করতে হবে? নাকি সাহূর খেলেই নিয়ত হয়ে যায়?
যেকোনো ইবাদতের জন্য নিয়ত করা আবশ্যক। আর নিয়তের স্থান হলো মানুষের অন্তর। সকল ইবাদতের ক্ষেত্রেই এই নীতি প্রযোজ্য। সুতরাং নিয়ত অন্তরেই করতে হবে; মুখে উচ্চারণ করার কোনো প্রয়োজন নেই।বরং মুখে নিয়ত উচ্চারণ করা শরিয়তসম্মত নয়। কারণ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের থেকে এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায়নি যে, তারা সালাত বা সাওমের নিয়ত করার জন্য “ﻧﻮﻳﺖ ﺃﻥ ﺃﺻﻠﻲ” ইত্যাদি বাক্য উচ্চারণ করতেন। অতএব, মুখে নিয়ত বলা বিদ‘আত।
সাওমের নিয়তে সাহূর খাওয়াই যথেষ্ট। এতে সাওম আদায় হয়ে যাবে।
ইমাম তাইমিয়া (রহ:)বলেন, সিয়ামকারী যখন সাহূর খায়, সিয়াম করার ইচ্ছায়ই খায়। তিনি আরো বলেন, যে ব্যক্তি জানতে পারে যে, আগামি কাল রমাদান এবং সে সিয়াম করার ইচ্ছা করে, এতেই তার নিয়ত হয়ে যায়। আলাদাভাবে মুখে নিয়ত করার প্রয়োজন নেই।
সাহূর খাওয়ার গুরুত্ব
সাহূর খাওয়া সুন্নাহ এবং মুসলিম উম্মাহর স্বাতন্ত্র্যের প্রতীক। অনেকেই মনে করেন সাহূর না খেলেও রোজা হয়ে যাবে—যা সত্য। কিন্তু সাহূর ত্যাগ করা সুন্নাহ থেকে বঞ্চিত হওয়ার শামিল।
সাহূর খাওয়া সুন্নাহ ও বরকতময়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘তোমরা সাহূর খাও, কেননা সাহরীতে বরকত নিহিত রয়েছে।’ [বুখারী, মুসলিম]
সাহূর: মুসলিম উম্মাহর স্বাতন্ত্র্যের প্রতীক
‘আমর ইবন ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
‘আমাদের ও আহলে কিতাবদের সিয়ামের মধ্যে পার্থক্য হলো সাহূর খাওয়া।—মুসলিম
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবসময় চেয়েছেন আমরা যেন ইয়াহুদি ও খ্রীস্টানদের কোন ব্যাপারে অনুসরন না করি। এমনকি ইবাদতের ক্ষেত্রেও না। সুতারাং ইয়াহুদি ও খ্রীস্টানদের সাওমের সাথে পার্থক্য করার জন্য আমাদেরকে অবশ্যই সাহূর খেতে হবে।
আশুরার রোজা: স্বাতন্ত্র্যের বাস্তব উদাহরণ
ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.) যখন হিজরত করে মদিনা পৌঁছেন, তখন তিনি দেখলেন যে মদিনার ইহুদি সম্প্রদায় আশুরার দিনে রোজা পালন করছে। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, আশুরার দিনে তোমরা রোজা রেখেছ কেন? তারা উত্তর দিল, এই দিনটি অনেক সম্নানিত। এই পবিত্র দিনে মহান আল্লাহ মুসা (আ:) ও বনি ইসরাইলকে ফিরআউনের কবল থেকে রক্ষা করেছিলেন আর ফিরআউন ও তার বাহিনী কিবতি সম্প্রদায়কে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। এর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ মুসা (আ:) রোজা রাখতেন, তাই আমরাও আশুরার রোজা পালন করে থাকি। তাদের উত্তর শুনে ব্যাপারে রসুল (সা:) ইরশাদ করেন, মুসা (আ:)-এর কৃতজ্ঞতার অনুসরণে আমরা ইহুদি সম্প্রদায় চেয়ে অধিক হকদার। অতঃপর তিনি নিজে আশুরার রোজা রাখেন এবং উম্মতকে তা পালন করতে নির্দেশ প্রদান করেন। [বুখারি- মুসলিম]
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত- 'মহানবী (সা.) যখন আশুরার দিনে রোজা রাখেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার নির্দেশ প্রদান করেন, তখন সাহাবিরা অবাক হয়ে বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ইহুদি-নাসারারা তো এই দিনটিকে সম্মান করে থাকে। আমরা যদি এই দিনে রোজা রাখি, তাহলে তো তাদের সঙ্গে সামঞ্জস্য হবে। তাদের প্রশ্নের উত্তরে রাসুল (সা.) বললেন, 'তারা যেহেতু এদিন একটি রোজা পালন করে, আগামী বছর ইনশাআল্লাহ আমরা এই ১০ তারিখের সঙ্গে ৯ তারিখ মিলিয়ে দুই দিন রোজা পালন করব। — মুসলিম
যেখানে সিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের ক্ষেত্রেও রাসূলুল্লাহ ﷺ চেয়েছেন আমরা যেন কোনোভাবেই আহলে কিতাবদের অনুসরণ না করি, সেখানে আজ আমাদের নিজেদের দিকে তাকানো প্রয়োজন।
আমরা কি ভেবে দেখেছি—
কত সহজেই আমরা তাদের সংস্কৃতি, উৎসব ও রীতিনীতির অনুসরণ করছি?
তারা জন্মদিন পালন করে—আমরাও করি।
তারা নতুন বছর উদযাপন করে—আমরাও করি।
তারা বিবাহবার্ষিকী পালন করে—আমরাও করি।
এমন আরও কত বিষয় আছে, যেখানে প্রতিনিয়ত আমরা তাদের অনুকরণ করে চলেছি।
আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য চাইছেন যেন আমরা সব ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র থাকি—আমাদের ইবাদতে, আখলাকে, এবং জীবনব্যবস্থায়। একজন মুসলিমের আনন্দ, দুঃখ, উদযাপন—সবকিছুই হওয়া উচিত আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ–এর নির্দেশনার আলোকে।
আসুন, এই রমাদানে আমরা নিজেরাই নিজেকে প্রশ্ন করি—
আমাদের পরিচয় কি কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা নির্ধারিত, নাকি সমাজের প্রচলিত রীতির দ্বারা?
আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন, হিদায়াত দিন এবং তাঁর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমীন
