This website is under development. Some features and content may not be fully available yet. Thank you for your patience and support.

রমাদান ধারাবাহিক | পর্ব ৩

সীমাহীন প্রতিদানের ইবাদত: সিয়াম

RAMADAN

Umm Ayman

2/20/20261 min read

সীমাহীন প্রতিদানের ইবাদত: সিয়াম

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

আজ আমরা সিয়ামের ৪র্থ ফযীলত সম্পর্কে জানব, ইনশাআল্লাহ।

ফযীলত ৪: সিয়াম এমন এক ইবাদত যার প্রতিদান কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং আল্লাহ তা‘আলা নিজেই এর প্রতিদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

“আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, সিয়াম ছাড়া আদম সন্তানের প্রত্যেক আমল তার নিজের জন্য, কারণ তা কেবল আমার জন্য, আমিই এর প্রতিদান দেব। সিয়াম ঢাল স্বরূপ। যদি তোমাদের কেউ সিয়াম পালন করে, তাহলে সে যেন অশ্লীল কথা না বলে, যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সঙ্গে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়, তবে সে যেন বলে, আমি সিয়াম পালনকারী। ওই সত্তার শপথ! যার হাতে আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন, নিশ্চয়ই সিয়াম পালনকারীর মুখের না-খাওয়াজনিত গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশক আম্বরের চেয়েও অধিক প্রিয়। রোযাদারের জন্য দু’টি আনন্দ রয়েছে-একটি যখন সে ইফতার করে, অন্যটি যখন সে তাঁর রব আল্লাহর দিদার লাভ করবে তখন আনন্দ প্রকাশ করবে।
— সহীহ বুখারী ও মুসলিম

আসুন আমরা এই হাদীসটি একটু বিস্তারিতভাবে বুঝার চেষ্টা করি, ইনশাআল্লাহ।

“আমিই এর প্রতিদান দেব”

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

“মানব সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান দশ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু রোজা আমার জন্য, আমিই এর প্রতিদান দেব।”
— সহীহ মুসলিম

সাওম সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: «وأنا أجزي به» ‘সাওমের প্রতিদান আমি নিজে দেব।’ সাওমের প্রতিদানকে আল্লাহ তাঁর স্বীয় সত্তার প্রতি সম্পর্কযুক্ত করলেন। প্রতিটি নেক ‘আমল তার দশগুণ থেকে সাতশ গুণ ও তার চেয়েও অধিকহারে দেয়া হবে। আর সাওমের ছাওয়াবের কোনো সংখ্যা গণনা না করে আল্লাহ তা‘আলা আপন সত্তার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করেছেন। আর আল্লাহই হলেন সবচেয়ে বড় ও মহান ইজ্জতের অধিকারী ও সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল। দান দানশীল অনুপাতেই হয়ে থাকে। তাই সাওমের সাওয়াব এমন বিরাট যার কোনো হিসেব নেই।

“সিয়াম ঢাল স্বরূপ”

সিয়াম: দুনিয়া ও আখিরাতে ঢাল । সিয়াম, সিয়াম পালনকারীকে অনর্থক কথাবার্তা ও অশ্লীল সংলাপ হতে রক্ষা করে। এ জন্যই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

‘তোমাদের কেউ সাওম দিবসে থাকলে সে যেন অশ্লীল ভাষায় কথা না বলে এবং চিৎকার করে বাক্য বিনিময় না “

দুনিয়াতে সিয়াম ঢালস্বরূপ

সিয়াম একজন মুমিনের জন্য দুনিয়াতে ঢালের মতো কাজ করে। যেমন ঢাল মানুষকে আঘাত থেকে রক্ষা করে, তেমনি সিয়াম—

  • অশ্লীল কথা থেকে রক্ষা করে

  • ঝগড়া-বিবাদ থেকে বিরত রাখে

  • রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়

  • আত্মসংযম ও তাকওয়া অর্জনে সহায়তা করে

অতএব, সিয়াম শুধু ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়; বরং চরিত্র গঠন ও নফসের পরিশুদ্ধির এক মহান প্রশিক্ষণ।

আখিরাতে সিয়াম ঢালস্বরূপ

সিয়াম শুধু দুনিয়াতেই নয়, আখিরাতেও ঢাল হিসেবে কাজ করবে। এটি জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করার মাধ্যম হবে।

মুসনাদ আহমাদ-এ ইমাম আহমদ (রহ.) জাবির (রাঃ) থেকে হাসান সনদে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

সিয়াম ঢালস্বরূপ, যার দ্বারা সিয়াম পালনকারী নিজেকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করতে পারে।”
— মুসনাদ আহমাদ: ১৫২৬৫

হাদীসে এসেছে: ‘‘যে কেউ আল্লাহর রাস্তায় (অর্থাৎ শুধুমাত্র আল্লাহকে খুশী করার জন্য) একদিন সিয়াম পালন করবে, তাদ্বারা আল্লাহ তাকে জাহান্নামের অগ্নি থেকে সত্তর বছরের রাস্তা পরিমাণ দূরবর্তীস্থানে রাখবেন’’। [সহীহ মুসলিম: ২৭৬৭]

"সিয়াম পালনকারীর মুখের গন্ধ: আল্লাহর কাছে প্রিয়”

মানুষের দৃষ্টিতে রোযাদারের মুখের গন্ধ অপছন্দনীয় হতে পারে। কিন্তু আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা ভিন্ন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“সিয়াম পালনকারীর মুখের না-খাওয়াজনিত গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশক-আম্বরের চেয়েও অধিক প্রিয়।”

আল্লাহ বাহ্যিক রূপ নয়, বরং বান্দার অন্তরের ইখলাস ও ত্যাগকেই মূল্যায়ন করেন। সাওমের মাধ্যমে মহান আল্লাহর প্রতি ইখলাস প্রকাশ পায়। কেননা সিয়াম পালনকারী গোপনে যেখানে কেউ তাকে দেখে না সেখানেও কিছু আহার করে না। কারণ তিনি জানেন তার একজন রব রয়েছেন, যিনি নির্জনেও তার অবস্থা জানেন। আর তিনিই তার উপর সিয়াম অবস্থায় খাওয়া হারাম করেছেন। তাই সিয়ামকারী সাওমের সাওয়াব লাভের আশায় এবং আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচার ভয়ে আহার বিহার পরিত্যাগ করেন। এজন্যই আল্লাহ, সিয়াম পালনকারী বান্দার এই ইখলাসের যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করে সাওমকে সকল ইবাদত থেকে নিজের জন্য বিশিষ্ট করে নিয়েছেন।

"রোযাদারের দুই মহান আনন্দ"

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, রোযাদারের জন্য দুইটি আনন্দ রয়েছে—

১. ইফতারের সময়ের আনন্দ

  • সিয়াম পূর্ণ করার তাওফিক পাওয়ার আনন্দ

  • আল্লাহর নে‘আমত স্মরণ করার আনন্দ

সিয়াম পালনকারী আল্লাহর আনু্গ্রহর কথা স্মরণ করে আনন্দিত। যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা তাকে সিয়াম পালনের তাওফীক দিয়েছেন, তার জন্য সহজ করে দিয়েছেন, ফলে সে এ দিনের সিয়াম পূর্ণ করতে পেরেছে, এ মাসের সিয়াম পুরোপুরিভাবে আদয় করতে পেরেছে। কারণ, এমন অনেক লোক রয়েছে যারা সিয়াম পালনের নে‘আমত থেকে মাহরূম হয়েছে, তাদের কেউ কেউ প্রাপ্ত বয়স্ক হবার পূর্বে মারা গেছে, আবার কেউ ছিল সিয়াম পালনে অক্ষম, আবার তাদের কেউ পথভ্রষ্টতা ও দ্বীন বিমুখিতার ফলে সিয়াম পালন করতে পারেনি।

২. আল্লাহর দীদার লাভের আনন্দ

‘যখন একজন সাওম পালনকারী তার অতি দরকারী মুহূর্তে আল্লাহর কাছ থেকে পরিপূর্ণ প্রতিদান পাবে তখন সাওমের কারণে আনন্দ প্রকাশ করবে। যখন বলা হবে:‘সাওম পালনকারীরা কোথায়? তারা রাইয়ান নামক দরজা দিয়ে যেন জান্নাতে প্রবেশ করে, ওই দরজা দিয়ে সাওম পালনকারীরা ছাড়া আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।

হাদীসে এসেছে:

“সাওম পালনকারীরা ‘রাইয়ান’ নামক দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে, অন্য কেউ সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।”