This website is under development. Some features and content may not be fully available yet. Thank you for your patience and support.
রমাদান ধারাবাহিক | পর্ব ২৯
সালাফে সালেহীনদের ঈদের শপিং লিস্ট:
RAMADAN
3/17/20261 min read
সালাফে সালেহীনদের ঈদের শপিং লিস্ট
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম।
কয়দিন পরেই খুশির ঈদ। শপিং মার্কেট গুলো ভীষন ব্যস্ত। আমাদের রয়েছে ঈদের শপিং নিয়ে হাজারও চিন্তা। যদিও আলমারি খুললেই কাপড়চোপড় হুড়মুড় করে গায়ের উপরে এসে পড়ে, তাতে কি নতুন কাপড় না কিনলে তো আর ঈদ হয় না !!??
আসুন জেনে নেই ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা আমিনুল মুমিনীন উমরা ফারুক (র:) এর শপিং লিস্ট কেমন ছিল।
উমার ফারুক (রঃ) নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে এমন একজনের কথা যিনি ন্যায় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে জিরো টলারেন্স দেখিয়ে গেছেন !!গভীর রাতে যিনি পিঠে আটার বস্তা চাপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে অভাবী প্রজার ঘরে ছুটে যাচ্ছেন,সেই মানুষটাই মদ্যপানের অপরাধে নিজ ছেলেকে দোররা মারতেও এতোটুকু টললেন না!!
যেই মানুষটার ভয়ে সারাবিশ্বের কাফির শাসক থরথর করে কাঁপছে, সেই মানুষটাই রবের সামনে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে কাঁদতে কাঁদতে চেহারায় দাগ ফেলে দিচ্ছেন !! একটা মাত্র শতছিন্ন জামা কাঁচতে গিয়ে শুকাতে দেরী হলো বলে তিনি জুমুআর নামাযে আসতে দেরী করে ফেললেন অথচ তখন চারপাশ থেকে জলের মতো গণিমতের মাল আসছে !!
খেজুর পাতার চাটাইয়ে বসে অর্ধবিশ্ব শাসন করা এই মানুষটাকে নিয়ে কিংবদন্তীর শেষ নাই!
উমার ফারুক (রাঃ) এর খিলাফতের প্রথম দিকে আবু উবাইদা (রাঃ) তখন অর্থমন্ত্রী হিসাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার দেখাশুনা করছেন!!
.ঈদের আগের দিন খলীফাতুল মুসলেমীন হযরত উমর ফারুক ( রাঃ ) এর স্ত্রী তাঁর স্বামীকে বললেন-
"আমাদের জন্য ঈদের নতুন কাপড় না হলেও চলবে, কিন্তু ছোট বাচ্চাটি ঈদের নতুন কাপড়ের জন্য কাঁদছে........তার জন্যে কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি !!?? "
হযরত উমর ( রাঃ ) জবাব দিলেন- " আমার তো নতুন কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই !! "
খানিক পরে হযরত উমার ফারুক ( রাঃ ) তাঁর অর্থমন্ত্রী আবু উবাইদা ( রাঃ ) কে একটা চিঠি পাঠালেন........তাতে অনুরোধ করলেন তাঁকে যেনো এক মাসের বেতন অগ্রীম দেওয়া হয় !!
সমগ্র মুসলিম জাহানের যিনি অধিপতি, যিনি সেই সময় প্রায় অর্ধেক পৃথিবী শাসন করছেন..তাঁর এ ধরণের চিঠি পেয়ে আবু উবাইদা ( রাঃ ) চোখের পানি আটকে রাখতে পারলেন না !!
আবু উবাইদা ( রাঃ ) চিঠির বাহককে টাকা তো দিলেনই না, বরং চিঠির উত্তরে লিখে পাঠালেন-
." আমীরুল মুমিনীন,
.অগ্রীম বেতন বরাদ্দের জন্য দুটি বিষয়ে আপনাকে ফয়সালা দিতে হবে-
প্রথমত, আগামী মাস পর্যন্ত আপনি বেঁচে থাকবেন কি না !!??
দ্বিতীয়ত, বেঁচে থাকলেও দেশের জনসাধারণ আপনাকে সেই মেয়াদ পর্যন্ত খিলাফতের দায়িত্বে বহাল রাখবে কিনা !!?? "
এখন চিন্তা করে দেখুন তো.............পদমর্যাদায় ঢের উপরে যিনি, নিম্নপদস্থ কারো কাছ থেকে এই ধরণের চিঠি পেলে তাঁর রিঅ্যাকশন কীরকম হতে পারে !!?? .
উচ্চবাচ্চ্য করে ক্ষমতার দাপট দেখানো- " এতো বড়ো আস্পর্ধা !!?? " অথবা তাকে পদচ্যুত করা !!
কিন্তু হযরত উমার ফারুক ( রাঃ ) কী করলেন !!??
চিঠি পাঠ করে তিনি কোনো প্রতি উত্তর তো করলেনই না, বরং এতো বেশি কাঁদলেন যে তাঁর চোখের পানিতে দাঁড়ি ভিজে গেলো !!
তিনি দুই হাত তুলে আবু উবাইদা ( রাঃ ) জন্য দোয়া করলেন- একজন যোগ্য অর্থমন্ত্রী নির্বাচিত করতে পেরেছেন ভেবে !!
সুবহানাল্লাহ!
