This website is under development. Some features and content may not be fully available yet. Thank you for your patience and support.
রমাদান ধারাবাহিক | পর্ব ২৫
যাকাত: ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ রুকন ও সম্পদের পরিশুদ্ধি
RAMADAN
3/14/20261 min read
যাকাত: ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ রুকন ও সম্পদের পরিশুদ্ধি
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম।
আজকের আলোচনার বিষয় যাকাত।যাকাত ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রোকন।
ঈমানের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত হলো সালাত ও যাকাত। কুরআন মাজীদে বহু স্থানে সালাতের পাশাপাশি যাকাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর অনুগত বান্দাদের জন্য এতে রয়েছে অশেষ সওয়াব, রহমত, মাগফিরাত এবং আত্মশুদ্ধির প্রতিশ্রুতি।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
‘তাদের এ মর্মে আদেশ করা হয়েছে যে, তারা নিবিষ্ট মনে একান্তভাবে শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে, সালাত প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত প্রদান করব। আর এটাই হলো সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন।’ [সূরা আল-বায়্যিনাহ, আয়াত: ৫]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন: ‘আর সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও। আর তোমরা নিজদের জন্য মঙ্গলজনক যা কিছু অগ্রে পাঠাবে তোমরা তা আল্লাহর কাছে পাবে প্রতিদান হিসেবে উৎকৃষ্টতর ও মহত্তর রূপে। আর তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ [সূরা আল-মুযযাম্মিল, আয়াত: ২০]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন: ‘আর তোমরা যে সূদ দিয়ে থাক, মানুষের সম্পদে বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য তা মূলত আল্লাহর কাছে বৃদ্ধি পায় না। আর তোমরা যে যাকাত দিয়ে থাক আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে (তাই বৃদ্ধি পায়) এবং তারাই বহুগুণ সম্পদ প্রাপ্ত।’ [সূরা আর-রূম, আয়াত: ৩৯]
এ ছাড়াও যাকাত ফরয হওয়ার বিধান সম্পর্কে অনেক আয়াত রয়েছে।
হাদীসের আলোকে যাকাতের বিধান:
আব্দুল্লাহ ইবন ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ‘ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি, যথা- এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্যিকারের মাবুদ নেই। সালাত আদায় করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের সিয়াম পালন করা ও হজ আদায় করা। এ কথা শুনে একব্যক্তি বললেন, হজ তারপর কি রমযানের সিয়াম? তিনি বললেন, না বরং প্রথমে রমযানের সিয়াম তারপর হজ। এ ধারাবাহিকতায় আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি।’[ মুসলিম: ১৬]
সুতরাং বোঝা গেল, যাকাত ইসলামের একটি রুকন ও মৌলিক ভিত্তিগুলোর একটি। আর কুরআনের বহু জায়গায় সালাতের পাশাপাশি যাকাতের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।
ইজমা: সকল মুসলিম অকাট্যভাবে একমত যে, যাকাত একটি ফরয বিধান। সুতরাং যাকাত ফরয জেনেও যদি কোনো ব্যক্তি তা অস্বীকার করে, তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে। আর যে যাকাত প্রদানে কৃপণতা করবে বা পরিমানের চেয়ে কম দেবে, সে লাঞ্ছনা ও কঠিন শাস্তির উপযুক্ত হবে।
যাকাত আদায়ে অবহেলার ভয়াবহ পরিণতি
যাকাতের গুরুত্ব ও উপকারিতা যেমন অনেক, তেমনি যারা যাকাত আদায় করে না তারা আল্লাহর কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে।
উপরের আলোচনা থেকে যাকাতের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা এবং এর সুফল ও উপকারিতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেল। ফরয হওয়া সত্ত্বেও যারা যাকাত আদায় করে না তারা যাকাতের সকল সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর আদেশ অমান্য করার কারণে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবেন।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,"আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তোমাদেরকে দিয়েছেন তাতে যারা কৃপণতা করে তারা যেন কিছুতেই মনে না করে যে, এটা তাদের জন্য মঙ্গল। না, এটা তাদের জন্য অমঙ্গল। যে সম্পদে তারা কৃপণতা করেছে কিয়ামতের দিন তা-ই তাদের গলায় বেড়ি হবে। আসমান ও যমীনের স্বত্ত্বাধিকার একমাত্র আল্লাহরই। তোমরা যা কর আল্লাহ তা বিশেষভাবে অবগত।" [সূরা আলইমরান : ১৮০]
এই আয়াতে এমন কৃপণ ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, যে আল্লাহর দেওয়া সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে না। এমনকি সেই সম্পদের ওপর যে ওয়াজিব যাকাত রয়েছে তাও সে আদায় করে না।
আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন,
"হে ঈমানদারগণ! পন্ডিত ও সংসার বিরাগীদের মধ্যে অনেকেই তো জনসাধারণের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে খায় এবং মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে নিবৃত্ত করে আর যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না আপনি তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন।যেদিন জাহান্নামের আগুনে সেগুলোকে উত্তপ্ত করা হবে এবং সে সব দিয়ে তাদের কপাল, পাঁজর আর পিঠে দাগ দেয়া হবে, বলা হবে, এগুলোই তা যা তোমরা নিজেদের জন্য পুঞ্জীভূত করতে। কাজেই তোমরা যা পুঞ্জীভূত করেছিলে তার স্বাদ ভোগ কর।[ সুরাহ আত তওবা ৯:৩৪-৩৫]
ইয়াহুদি ও নাসারাদের অনেক আলেমের মধ্যে মিথ্যা ফতোয়া দেওয়ার প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছিল অর্থলোভ ও লালসা থেকে। এজন্য এই আয়াতে সম্পদলোভীদের করুণ পরিণতি ও কঠোর শাস্তির কথা বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন—
“যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না—তাদেরকে কঠোর আযাবের সুসংবাদ দিন।”
এখানে “আল্লাহর পথে ব্যয় করে না” বাক্যাংশ থেকে বোঝা যায়—যারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী তাদের সম্পদের যাকাত আদায় করে এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করে, তাদের অবশিষ্ট সম্পদ জমা রাখা গুনাহ নয়।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে মালামালের যাকাত দেয়া হয়, তা জমা রাখা সঞ্চিত ধন-রত্নের শামিল নয়।” [আবু দাউদ: ১৫৬৪]।
এ থেকে বোঝা যায় যে, যাকাত আদায়ের পর যা অবশিষ্ট থাকে, তা জমা রাখা গোনাহ নয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
যে ব্যক্তি তাঁর উটের যাকাত দিবে না সে যেভাবে দুনিয়াতে ছিল তার থেকে উত্তমভাবে এসে তাকে পা দিয়ে মাড়াতে থাকবে, অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি ছাগলের যাকাত দিবে না সে যেভাবে দুনিয়াতে ছিল তার থেকেও উত্তমভাবে এসে তাকে তার খুর ও শিং দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করতে থাকবে... আর তোমাদের কেউ যেন কিয়ামতের দিন তাঁর কাঁধে ছাগল নিয়ে উপস্থিত না হয়, যে ছাগল চিৎকার করতে থাকবে, তখন সে বলবে, হে মুহাম্মাদ! আর আমি বলব, আমি তোমার জন্য কোন কিছুরই মালিক নই, আমি তো তোমার কাছে বাণী পৌছিয়েছি। আর তোমাদের কেউ যেন তাঁর কাঁধে কোন উট নিয়ে উপস্থিত না হয়, যা শব্দ করছে। তখন সে বলবে, হে মুহাম্মাদ! আমি বলব, আমি তোমার জন্য কোন কিছুর মালিক নই, আমি তো তোমাদেরকে পৌছিয়েছি। [বুখারী: ১৪০২; মুসলিম: ৯৮৮]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দিয়েছেন, কিন্তু সে তার যাকাত আদায় করেনি, তার সে ধন-সম্পদকে কেয়ামতের দিন একটি সাপের রূপ দেয়া হবে। যার মাথায় চুল থাকবে এবং চোখের উপর দুটি কালো দাগ থাকবে। সাপটিকে তার গলায় পেচিয়ে দেয়া হবে, সেটি তার মুখে দংশন করতে থাকবে এবং বলবেঃ আমি তোমার ধন-সম্পদ, আমি তোমার গচ্ছিত অর্থসম্পদ। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াতটি ( ৩:১৮০)পাঠ করেন। [বুখারীঃ ৪৫৬৫]
সুতারাং প্রিয় দ্বিনি ভাইবোনেরা সম্পদের যাকাতে ব্যাপারে সতর্ক হন। আপনার যাকাত সঠিকভাবে আদায় হচ্ছে কিনা সেটা খেয়াল রাখা দায়িত্ব আপনার। মনে রাখবেন আজ ঠিক ভাবে যাকাত আদায় না করে সম্পদ বর্ধিত করবেন আর কাল আপনার মৃত্যুর পর কবরে আপনি এই সম্পদের কিছুই নিয়ে যেতে পারবেন না । শুধু আপনার সাথে থাকবে আপনার আমল। মানুষে সম্পদ তিন রকম, যথা: ১।তার সন্তান, আত্নিয়স্বজন ও বনধু বান্ধব, ২. আমল ,৩। তার জায়গা জমি টাকা পয়সা বাড়ি গাড়ি। কবরে যাত্রা পথে তার সাথে থাকে শুধু তার আমল ও সন্তান ও আত্নিয়স্বজন ও বনধু বান্ধব। দাফনের পর সন্তান ও আত্নিয়স্বজন ও বনধু বান্ধব ও আর থাকে না তখন থাকে শুধু তার আমল।
