This website is under development. Some features and content may not be fully available yet. Thank you for your patience and support.
রমাদান ধারাবাহিক | পর্ব ২৪
আল-কুরআনের কতিপয় সুরার ফযিলত (সহীহ দলীলসহ)
RAMADAN
Umm Ayman
3/13/20261 min read
আল-কুরআনের কতিপয় সুরার ফযিলত (সহীহ দলীলসহ)
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম।
ইনশাআল্লাহ আজ আমরা কুরআনুল কারিমের নির্দিষ্ট কিছু সুরা ও আয়াতের ফযিলত সম্পর্কে জানব।
১. সুরা ফাতিহা এর ফযিলত:
* আবু সাঈদ ইবনুল মু‘আল্লা (রা:) আনহু হতে বর্ণিত, রসুল (সা:) তাকে বললেন:‘অবশ্যই আমি তোমাকে কুরআনের বড় সূরাটি শেখাবো। সেটা হলো সূরা আল-ফাতেহা ‘‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’’ এটাই ‘সাব‘উল মাসানী’ (বা বারবার পঠিত ৭টি আয়াত) এবং মহা কুরআন যা আমাকে দেওয়া হয়েছে।” —বুখারী: ৫০০৬
* সূরা ফাতিহার এ ফযীলতের কারণেই সালাতের মধ্যে এ সূরা পাঠ করা সালাতের রুকন হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে; যা ছাড়া সালাত শুদ্ধ হয় না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:‘সূরা ফাতিহা যে ব্যক্তি পড়ল না তার সালাতই পূর্ণ হবে না।’ —বুখারী: ৭৫৬; মুসলিম: ৩৯৪
* আবূ হুরাইরা (রা:) আনহু হতে বর্ণিত, রসুল (সা:) বলেছেন:“যে ব্যক্তি এমন কোনো সালাত পড়ল যাতে সে সূরা ফাতিহা পাঠ করে নি সেটা অসম্পূর্ণ।” কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন। তখন আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে জিজ্ঞাসা করা হলো, আমরা ইমামের পেছনে থাকলে কী করবো? তিনি বললেন: তখন তা মনে মনে পাঠ করবে।’ —মুসলিম: ৩৯৫
জাহিরি সলাত(ফযর,মাগরিব,এশা) এর সময়ও মুক্তাদি মনে মনে সুরা ফাতিহা পড়বে।
২. সূরা বাকারা ও সূরা আলে ইমরান এর ফযিলত:
* রসুল (সা:) বলেছেন:“তোমরা যাহরাওয়াইন তথা পুষ্পদ্বয় পাঠ করো, তা হলো সূরা বাকারা ও সূরা আলে ইমরান। কারণ এ দুটো সূরা কিয়ামতের দিন দু’টি মেঘমালার ন্যায় অথবা দু’দল পাখির ঝাঁকের মতো সারিবদ্ধভাবে উড়বে এমতাবস্থায় যে, তারা তাদের পাঠকদের পক্ষ নিয়ে বাক-বিতণ্ডা করবে। (জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর জন্য অথবা জাহান্নামের ফিরিশতা যাবানিয়াদের সাথে)। তোমরা সূরা বাকারা পাঠ করো। কারণ তা গ্রহণ (করা বা মুখস্থ) করায় রয়েছে বরকত আর তা পরিত্যাগ করায় রয়েছে পরিতাপ। আর কোনো ‘বাতালা’ অর্থাৎ জাদুকর এটা অর্জন করতে পারে না।’ —মুসলিম: ৮০৪
* আবূ হুরাইরা (রা:) আনহু হতে বর্ণিত, রসুল (সা:) বলেছেন: ‘যে ঘরে সূরা বাকারা পাঠ করা হয় সেখানে শয়তান প্রবেশ করে না।’ —তিরমিযী: ২৮৭৭
আর শয়তান এজন্য ঘরে প্রবেশ করে না; কারণ তাতে আয়াতুল কুরসী রয়েছে।
* আর রাসূলুল্লাহ (সা:) থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত আছে যে,“যে ব্যক্তি এ আয়াতুল কুরসী রাত্রি বেলায় পাঠ করল, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য একজন সংরক্ষণকারী সার্বক্ষণিকভাবে থাকবে এবং শয়তান সকাল হওয়া পর্যন্ত তার কাছে আসতে পারবে না।” —বুখারী: ২৩১১
* অনুরূপভাবে ‘আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত,“জিব্রাঈল আল্লাহর নবী (সা:) কাছে থাকা অবস্থায় বললেন, এই দেখুন এটা একটা দরজা আকাশ থেকে খোলা হয়েছে- ইতোপূর্বে কখনো তা খোলা হয়নি। রাবী বললেন, এরপর ওই দরজা থেকে একজন ফেরেশতা নাযিল হয়ে আল্লাহর নবীর সম্মুখে হাযির হয়ে বললেন: আপনি দু’টো নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন যা আপনার পূর্বে কোনো নবীকে দেয়া হয়নি, সেটা হলো (১) সূরা ফাতিহা। (২) সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো।” —মুসলিম: ৮০৬
রাতের বেলা ঘুমানোর পূর্বে সুরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত তেলাওয়াত করলে তাহাজ্জুদ নামাযের সমান সওয়াব পাওয়ার আশা করা যেতে পারে। আবূ মাস’উদ আল আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সা:) বলেছছেন, কেউ যদি রাতে সূরা বাকারার শেষ দু’টি আয়াত পাঠ করে, সেটাই তার জন্য যথেষ্ট। —বুখারি ৫০০৯
বিখ্যাত হাদীসের কিতাব,‘রিয়াদুস সালেহীন’ এর লেখক ও সহীহ মুসলিমের ভাষ্যকার, ইমাম আন-নববী (রহঃ) বলেন, “’সেটাই তার জন্য যথেষ্ট-এর অর্থ কেউ বলেছেন, কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য যথেষ্ঠ হবে। কেউ বলেছেন, শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য যথেষ্ঠ হবে। কেউ বলেছেন, বালা-মুসিবত থেকে নিরাপত্তা পাওয়া যাবে। তবে সবগুলো অর্থ সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
সহীহ বুখারীর ভাষ্যকার, আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদীস, ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) এই অভিমত সমর্থন করে বলেন, উপরের সবগুলো অর্থ নেওয়া সঠিক। আল্লাহ ভালো জানেন। প্রথম অর্থটি (তাহাজ্জুদের সমান সওয়াব পাওয়া যাবে) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে একটি মারফু হাদীসে স্পষ্ট ঊল্লেখ আছে।—ফাতহুল বারীঃ ৮/৬৭৩, হাদীস নং- ৫০১০
এ কারণেই আলী (রাঃ) বলেন, “আমার মতে যার সামান্যও বুদ্ধিজ্ঞান আছে, সে এ দুটি আয়াত পাঠ করা ছাড়া নিদ্রা যাবে না”।
৩. সুরা ইখলাস এর ফযিলত:
* তিনবার সুরা ইখলাস পড়লে একবার ক্বুরআন খতম দেওয়ার সমান সওয়াব পাওয়া যায়। রসুলুল্লাহ(সা:)সুরা ইখলাস সম্পর্কে বলেছেন,
“নিঃসন্দেহে এটা ক্বুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান।”
[মুসলিমঃ ৮১২, তিরমিযীঃ ২৮৯৯]
* সুরা ইখলাস দশবার পড়লে জান্নাতে অট্টালিকা পাওয়া যায়। ।
রসুলুল্লাহ(সা:)বলেছেন, “যে ব্যক্তি সুরা ইখলাস দশ বার পড়বে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ তৈরী করবেন, যে বিশ বার পড়বে তার জন্য দুইটি প্রাসাদ তৈরী করবেন, যে ত্রিশ বার পড়বে তার জন্য আল্লাহ তিনটি প্রাসাদ তৈরী করবেন।”[দারিমীঃ ৩৪৯২, সিলসিলাহ সহীহাহঃ ৫৮৯]
*সুরা ইখলাসকে ভালোবাসলে, এই ভালোবাসা আপনাকে জান্নাতে নিয়ে যাবেঃ এক সাহাবী এসে বলল, “হে আল্লাহর রসূল! আমি এই (সুরা) ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদকে ভালবাসি”। তিনি বললেন, “এর ভালবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।” [বুখারীর, তিরমিযী , আহমাদ ]
* সহীহ বুখারীতে আবূ সাঈদ খুদরী (রা:)থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ(সা:)এ সূরার ব্যাপারে বলেছেন: ‘সেই সত্তার কসম করে বলছি যার হাতে আমার জীবন নিহিত, নিশ্চয়ই এ সূরা ইখলাস কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান।’[বুখারী: ৫০১৩]
অবশ্য ফযীলতের ক্ষেত্রে এটা কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান এ কথাটির অর্থ এই নয় যে তা পুরো কুরআনের বিকল্প। এজন্য যদি কেউ এ সূরা সালাতে তিনবার পড়ে তা তার জন্য সূরা ফাতেহার বিকল্প হিসেবে গ্রহণীয় হবে না। বস্তুত কোনো কিছু ফযীলতের ক্ষেত্রে অন্য কিছুর সমপর্যায়ের হলেই এটা আবশ্যক নয় যে তা অপরটার বিকল্প হবে। যেমন সহীহ বুখারী ও মুসলিমে এসেছে, আবূ আইয়ুব আল আনছারী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ(সা:)বলেছেন:“যে ব্যক্তি বলল,‘একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, সকল রাজত্ব তাঁর, তাঁর জন্য সকল প্রশংসা।’ এ দো‘আ বা যিকরটি ১০ বার পড়ে, সে যেন ইসমাইল ‘আলাইহিস সালামের সন্তানদের মধ্যে চারজন গোলামকে আযাদ করে দিল।”[ বুখারী: ৬৪০৪; মুসলিম: ২৬৯৩]
তাবরানীর বর্ণনায় বলা হয়েছে, ‘তা তার জন্য ইসমাঈল ‘আলাইহিস সালামের বংশধরদের মধ্য হতে চারজনকে আযাদ করার সমতুল্য হবে।[তাবরানী, আল-মু‘জামুল কাবীর ৪/১৬৫, নং ২০৪০]
এ দো‘আর এ ফযীলত সত্ত্বেও যদি কারো উপর ৪ জন গোলাম আযাদ করার কাফফারা ধার্য হয় তখন সে এ যিকরটি করলে গোলাম আযাদের জন্য যথেষ্ট হবে না; যদিও ফযীলত বা সওয়াবের দিক থেকে মান সমান হয়।
৪.সূরা মুয়াওয়াযাতাইন তথা (কুল ‘আউযু বিরাব্বিল ফালাক) ও (কুল ‘আউযু বিরাব্বিন নাস) এর ফযিলত:
* ‘উকবা ইবন আমর (রা:)হতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ(সা:) বলেছেন, “তুমি কি দেখনি? আজ রাত্রিতে নাযিল হওয়া সেই আয়াতসমূহ! এরূপ আয়াত আর লক্ষ্য করা যায় না। সেগুলো হলো সূরা ফালাক ও সূরা নাস। তথা কুল ‘আউযু বিরাব্বিল ফালাক ও কুল ‘আউযু বিরাব্বিন নাস।”[ মুসলিম: ৮১৪]
* আবূ সাঈদ খুদরী ( রাঃ)হতে বর্ণিত,তিনি বলেন ‘রাসূলুল্লাহ (সূরা ফালাক্ক ও নাস অবতীর্ণ হবার পূর্ব পর্যন্ত নিজ ভাষাতে) জিন ও বদ নজর থেকে (আল্লাহর) আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। পরিশেষে যখন উক্ত সূরা দু’ টি অবতীর্ণ হল, তখন ঐ সূরা দু’টি দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করতে লাগলেন এবং অন্যান্য সব পরিহার করলেন’। (তিরমিজী ২০৫৮)
৫. সুরা কাফিরুন এর ফযিলত:
রসুলুল্লাহ(সা:) বলেনঃ “যখন শয্যা গ্রহণ করবে তখন পাঠ করবে “ক্বুল ইয়া আইয়্যূহাল কাফেরূন”- শেষ পর্যন্ত তা পাঠ করবে। কেননা উহার মধ্যে শির্ক থেকে মুক্ত হওয়ার ঘোষণা রয়েছে। (ত্বাবরাণী)
৬. সুরা কাহাফের ফযিলত:
রসুলুল্লাহ(সা:) বলেনঃ “যে ব্যক্তি জুম’আর দিনে সূরা আল-কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য মহান আল্লাহ্ দুই জুম’আর মাঝে নূর আলোকিত করবেন।”-[ইমাম নাসাঈ ও বায়হাকী হাদিসটি বর্ণনা করেন।]
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রা) হতে বর্ণিত। নাবী (সা:) বলেছেন : যে ব্যক্তি জুমু’আহর দিনে সূরাহ কাহাফ পাঠ করবে, তার ঈমানের নূর এক জুম’আহ হতে আরেক জুমু’আহ পর্যন্ত বিচ্ছুরিত হতে থাকবে। – হাদীস সহীহ। বায়হাক্বীর ‘সুগরা’ হা/৬৩৫ এবং ‘কুবরা’ হা/৫৭৯২, সহীহ আত-তারগীব হা/৭৩৬।
৭. সুরা মুলকের ফযিলত:
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রসুলুল্লাহ(সা:) বলেছেন; " কোরআন শরীফে ৩০ আয়াত বিশিষ্ট একটি সূরা আছে, যা তার তেলাওয়াতকারীকে ক্ষমা করে না দেয়া পর্যন্ত তার জন্য সুপারিশ করতেই থাকবে। সূরাটি হলো تبارك الذي بيده الملك.-- #তাবারাকাল্লাযী বি ইয়াদিহিল মূলক অর্থাৎ #সূরা মূলক… [আবু দাউদ-১৪০২, তিরমিজি-২৮৯১, ইবনে মাজাহ-৩৭৮৬, মুসনাদে আহমদ-২/২৯৯]
প্রিয় দ্বিনি ভাইবোনেরা রমাদান মাস হলো কোরআন নাযিলের মাস। এ মাসে অধিক কুরআন তেলাওয়াতের বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। জিব্রাঈল (আ:), রসুলুল্লাহ(সা:) এর কাছে প্রত্যেক বছর রমাদান মাসে একবার পুরো কুরআন পেশ করতেন, পুনরাবৃত্তি করতেন। অবশেষে রসুলুল্লাহ(সা:) এর মৃত্যুর বছর তিনি সেটা দু’বার পেশ করেন; যাতে তা রাসূলের হৃদয়ে স্থায়ী ও স্থির হয়ে যায় এবং পাশাপাশি বিষয়টি জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এমনটি করেছেন। [বুখারী: ৪৯৯৮] অনুরূপভাবে সালাফে সালেহীন তথা আমাদের নেককার পূর্বসুরীগণ রমাদান মাসে সালাতে ও সালাতের বাইরে কুরআন বেশি বেশি তিলাওয়াত করতেন।
* ইমাম যুহরী (রহ.) রমযান মাস আগমন করলে বলতেন, এটা তো শুধু কুরআন তিলাওয়াত ও মানুষকে খাবার খাওয়ানোর মাস।
* এ মাহে রমযান আগমন করলে ইমাম মালেক (রহ.) হাদীস পাঠ, ইলমী মজলিস পরিত্যাগ করতেন এবং মুসহাফ থেকে কুরআন তেলাওয়াতের প্রতি মনোনিবেশ করতেন।
হে আল্লাহ, আপনি আমাদের সেভাবে কুরআন তিলাওয়াতের তাওফীক দিন যেভাবে করলে আপনি খুশি হবেন এবং এর মাধ্যমে আপনি আমাদের শান্তির পথ দেখান, এর দ্বারা আমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোয় বের করে আনুন, আর একে আমাদের বিপক্ষে নয় আমাদের পক্ষে প্রমাণ বানিয়ে দিন হে সৃষ্টিকুলের পালনকর্তা। হে আল্লাহ আপনার আপন করুণায় এ কুরআনের মাধ্যমে জান্নাতে আমাদের উঁচু স্তর প্রদান করুন এবং জাহান্নামের স্তরসমূহ থেকে নাজাত দিন। আর আমাদের যাবতীয় গুনাহের ক্ষতিপূরণ করে দিন। আমাদেরকে এবং পিতা-মাতা ও সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন হে পরম করুনাময়! আর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর।
