This website is under development. Some features and content may not be fully available yet. Thank you for your patience and support.
রমাদান ধারাবাহিক | পর্ব ২২
আল্লাহর কিতাবের তিলাওয়াত: ধরণ ও গুরুত্ব
RAMADAN
3/12/20261 min read
আল্লাহর কিতাবের তিলাওয়াত: ধরণ ও গুরুত্ব
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম।
আল্লাহর কিতাবের তিলাওয়াত দু’প্রকার। যথা-
১। প্রথম প্রকার: হুকমী বা প্রায়োগিক তিলাওয়াত। এটা হলো আল্লাহর কথাকে বিশ্বাস করা, তাঁর নির্দেশ মেনে নিয়ে তাঁর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ থেকে বর্জন করে কিতাব তথা আল কুরআনের সকল হুকুম-আহকাম বাস্তবায়ন করা।
২। দ্বিতীয় প্রকার: শাব্দিক তিলাওয়াত।এটা হলো আল কুরআন পাঠ করা। এর ফযীলতের ব্যাপারে কুরআন ও সুন্নাহ হতে অনেক দলীল প্রমাণ রয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন: “যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ (অক্ষর) পাঠ করবে, তাকে একটি নেকী প্রদান করা হবে। আর প্রতিটি নেকী দশগুণ বৃদ্ধি করা হবে। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ, মীম একটি হরফ।” [তিরমিযী: ২৯১০]
কুরআন শিক্ষা করার গুরুত্ব
কুরআন শিক্ষা করার জন্য ব্যায়িত সময় ও চেষ্টাকে উৎসাহিত করে রসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন
“আল-কুরআনে দক্ষ ও পণ্ডিত ব্যক্তিবর্গ সম্মানিত পুণ্যবান ফেরেশতাদের সঙ্গে থাকবেন। যে ব্যক্তি কুরআন আটকে আটকে তিলাওয়াত করে অর্থাৎ ঠিক মত পড়তে পারে না ভেঙ্গে ভেঙ্গে বানান করে কষ্ট করে পড়তে হয় তার জন্য দু’টি প্রতিদান রয়েছে।” [বুখারী: ৪৯৩৭; মুসলিম:৭৯৮]
দুটি প্রতিদানের প্রথমটি হলো: তিলাওয়াতের, দ্বিতীয়টি হলো: পাঠকারীর কষ্টের। সুবাহানআল্লাহ এর চেয়ে বড় পুরুস্কার আর কি হতে পারে!
কোরআন পাঠকারির তুলনা করতে গিয়ে রসূলুল্লাহ (সা:) আরও বলেছেন: “যে মুমিন কুরআন তিলাওয়াত করে তার দৃষ্টান্ত কমলালেবুর মত, যা সুস্বাদু ও সুঘ্রাণযুক্ত। আর যে মুমিন কুরআন তিলাওয়াত করে না, তার দৃষ্টান্ত খেজুরের ন্যায় যার কোনো ঘ্রাণ নেই কিন্তু তার স্বাদ মিষ্টি।” [বুখারী: ৫৪২৭; মুসলিম: ২৪৩]
মসজিদে কুরআন পাঠের সাওয়াব
মসজিদে গিয়ে কোরআন পাঠ করার রয়েছে অনেক বেশি সাওয়াব। রসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন:
“যখন আল্লাহর কোনো ঘরে (মসজিদে) লোকজন একত্রিত হয়ে কুরআন তিলাওয়াত করে এবং নিজেদের মাঝে তা অধ্যয়ণ করে, তখন তাদের ওপর প্রশান্তি অবতীর্ণ হয়, আল্লাহর রহমত তাদেরকে আবৃত করে রাখে, ফেরেশতাগণ তাদের বেষ্টন করে রাখেন এবং আল্লাহ তাঁর কাছে অবস্থিত ফেরেশতাদের কাছে তাদের আলোচনা করেন।” —মুসলিম: ২৬৯৯; আবু দাউদ, ১৪৫৫
রসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন:
“তোমাদের কেউ কি এরূপ করতে পার না যে, সকালে মসজিদে গিয়ে মহান আল্লাহ্র কিতাব থেকে দুটো আয়াত জানবে অথবা পড়বে; এটা তার জন্য দু’টো উষ্ট্রীর তুলনায় উত্তম। আর তিনটি আয়াত তিনটি উষ্ট্রী থেকে উত্তম, চারটি আয়াত চারটি উষ্ট্রী থেকে উত্তম। আর (শুধু উষ্ট্রীই নয়, বরং একইসাথে) সমসংখ্যক উট লাভ করা থেকেও তা উত্তম হবে।” —মুসলিম: ৮০৩
কুরআনের প্রতি যত্নবান না হলে অর্থাৎ রিভিসন না দিলে কুরআন স্মৃতি থেকে দ্রুত চলে যায়। রসূলুল্লাহ (সা:)বলেছেন:“তোমরা কুরআনের যথাযথ যত্ন নাও, তা হিফাযত ও সংরক্ষণ কর। ওই সত্তার শপথ! যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন, অবশ্যই উট তার রশি থেকে যেমন দ্রুত পালিয়ে যায় তার চেয়েও আরো তীব্র বেগে এ কুরআন চলে যায়। (অর্থাৎ কুরআনের প্রতি যত্নবান না হলে কুরআন স্মৃতি থেকে দ্রুত চলে যাবে।)”— বুখারী: ৫০৩৩; মুসলিম: ৭৯১
কুরআন ভুলে গেলে কী বলা উচিত নয়
আমি আগে এই সুরাটা জানতাম কিন্তু এখন ভুলে গেছি- প্রায়ই এরকম কথা শোনা যায়। রসূল (সা:)এরকম বলেতে নিষেদ করেছেন তিনি (সা:) বলেন:
“তোমাদের কেউ যেন না বলে আমি অমুক অমুক আয়াত ভুলে গেছি। বরং তাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে।’— মুসলিম: ৭৯০
হাদীসে ‘আমি ভুলে গেছি’ এ কথা বলবে না এজন্য যে, এতে করে কুরআন মুখস্থ করার পর গুরুত্বহীনতার কারণে ভুলে গেছে বুঝা যায়। তাই এভাবে বলা যাবে না। কোন কোন আলেমর উক্তি হলো ‘তাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে’ এর মানে হলো কুরআন মুখস্থ করার পর কোরআনের প্রতি তার গুররুত্বহীনতা বা অবহেলার শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ তা'আলা তাকে ভুলিয়ে দিয়েছেন।
প্রিয় দ্বিনি ভাই বোনেরা, আল-কুরআন পাঠ হলো অল্প আমলে অধিক সাওয়াব হাসিলের উপায়। তবে তা শুধু সে লোকের জন্যই যে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর পক্ষ থেকে সাওয়াব কামনা করে। সুতরাং প্রতারিত ও প্রবঞ্চিত সেই ব্যক্তি যে কুরআনের ব্যাপারে শৈথিল্য প্রদর্শন করে। আর সে লোকই তো ক্ষতিগ্রস্ত যে জানে তার লাভ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে অথচ এখনো সচেতন হন না।
