This website is under development. Some features and content may not be fully available yet. Thank you for your patience and support.
রমাদান ধারাবাহিক | পর্ব ২
সিয়াম পালনের অন্যতম ফযীলতসমূহ
RAMADAN
Umm Ayman
1 min read
সিয়াম পালনের অন্যতম ফযীলতসমূহ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
কুরআনুল কারীম ও সহীহ হাদীসে সিয়ামের বহু ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। আজ আমরা ইনশাআল্লাহ সিয়ামের ফযীলত সম্পর্কে জানব।
ফযিলত-১: সিয়াম আমাদের জন্য ফরয করা হয়েছে
মহান আল্লাহ বলেছেন—
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোযা ফরয করে দেয়া হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী নবীদের অনুসারীদের ওপর ফরয করা হয়েছিল ৷ এ থেকে আশা করা যায়, তোমাদের মধ্যে তাকওয়ার গুণাবলী সৃষ্টি হয়ে যাবে ৷ [ সূরা বাকারাঃ ১৮৩-১৮৫]
আল্লাহ তা'আলা আমাদের উপর রামদানে সিয়াম ফরয করে আমাদেরকে সাওয়াব হাসিলের এক সুযোগ করে দিয়েছেন। এ কথা সত্যি যে রমাদানের সিয়াম যদি আমাদের উপর ফরয না হতো তাহলে আমরা কেউই রমাদানে সিয়াম করতাম না- তা সিয়াম করা যতই সাওয়াবের কাজ হোক না কেন! এ ব্যাপারে একটা উদাহরন দিলে আরও পরিস্কার হয়ে যাবে। যেমন রসুল (সা:) বলেছেন
"এই দিনের (আরাফাতের দিনের) রোজা গত এক বছরের এবং আগামি এক বছরের সমস্ত পাপের কাফফারা। (মুসলিম,১১৬২)
অথচ আমরা অনেকেই আরাফাতের দিনে সিয়াম করে গুনাহ মাফ করার এই মাহান সুযোগকে কাজে লাগাই না ।
ফযিলত-২: সিয়াম সাধনা গুনাহ থেকে মাফ চাওয়ার একটি অন্যতম সুযোগ
আল্লাহ তা'আলা এই মাসে ঈমান সহকারে ও প্রতিদানের আশায় সিয়াম ও ক্বিয়াম পালন (রোজা ও নামাজ আদায়) করাকে গুনাহ মাফের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সিয়াম পালনের ফযিলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ইখলাস নিয়ে অর্থাৎ একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে সন্তুষ্টি করার জন্য রমাদানে সিয়াম পালন করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে’’ [সহীহ বুখারী : ২০১৪]
অতীতের সব গুনাহ কেবল তখনই মাফ হবে যখন নিম্নোক্ত শর্তাবলী পূরন করা হবে: -
১) আল্লাহর ওপর ঈমান ও সিয়াম ফরয হওয়াকে সন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করতে হবে,
২) সিয়ামের প্রতিদান প্রাপ্তির আশা করতে হবে,
৩) সিয়াম ফরয হওয়াতে বিরক্ত হওয়া যাবে না,
৪) সিয়ামের পুরস্কারের ব্যাপারে কোনোরূপ সন্দেহ পোষণ করা যাবে না।
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে আরও বর্ণিত হয়েছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি রমাদান মাসে ঈমান সহকারে ও সওয়াবের আশায় নামায আদায় করবে তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।” -[সহীহ বুখারী-(২০০৮) ও সহীহ মুসলিম-(১৭৪)]
মুসলিমগণ এ ব্যাপারে ইজমা (ঐকমত্য) করেছেন যে, রমাদান মাসে রাতের বেলা ক্বিয়াম পালন (নামায আদায় করা) সুন্নত। ইমাম নববী উল্লেখ করেছেন: “রমাদান মাসে ক্বিয়াম করার অর্থ হল তারাবীর নামায আদায় করা।
* অনুরূপ সহীহ মুসলিমে এসেছে, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “পাঁচ ওয়াক্তের সালাত, এক জুমআ হতে অন্য জুমআর সালাত এবং এক রমযান হতে অন্য রমযানের সিয়াম মধ্যবর্তী সময়ের সকল অপরাধের কাফফারাস্বরূপ, যদি কবীরা গুনাহ হতে বিরত থাকে”।
ফযিলত ৩: সিয়াম পালনকারীর প্রতিদান আল্লাহ তাআ'লা নিজ হাতে দিবেন
হাদীসে কুদসীতে আছে আল্লাহতাআ'লা বলেন, "বনি আদমের সব আমল তার নিজের জন্য, অবশ্য রোজার কথা আলাদা, কেননা রোজা আমার জন্য এবং আমিই এর পুরস্কার দিব"। [বুখারি]
আল্লাহ তা‘আলা সকল ইবাদতের মধ্য থেকে সাওমকে নিজের জন্য খাস করেছেন। কারণ সাওম আল্লাহর কাছে একটি মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। সাওমের মাধ্যমে মহান আল্লাহর প্রতি ইখলাস প্রকাশ পায়। কেননা সিয়াম পালনকারী গোপনে যেখানে কেউ তাকে দেখে না সেখানেও কিছু আহার করে না। কারণ তিনি জানেন তার একজন রব রয়েছেন, যিনি নির্জনেও তার অবস্থা জানেন। আর তিনিই তার উপর সিয়াম অবস্থায় খাওয়া হারাম করেছেন। তাই সিয়ামকারী সাওমের সাওয়াব লাভের আশায় এবং আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচার ভয়ে আহার বিহার পরিত্যাগ করেন। এজন্যই আল্লাহ, সিয়াম পালনকারী বান্দার এই ইখলাসের যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করে সাওমকে সকল ইবাদত থেকে নিজের জন্য বিশিষ্ট করে নিয়েছেন। আর এ বিশিষ্টকরণের উপকারিতা দৃশ্যমান হবে কিয়ামত দিবসে।
যেমনটি সুফিয়ান ইবন ‘উয়াইনাহ রহ: বলেন: ‘যখন কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তার বান্দার হিসাব নেবেন এবং বান্দার আমল থেকে তার পক্ষ থেকে অন্যের উপর করা জুলুমের বিনিময় মিটিয়ে দিবেন। অবশেষে যখন সিয়াম ছাড়া তার অন্য কোনো আমল থাকবে না তখন আল্লাহ তাঁর পক্ষ হতে সব জুলুমের বিষয়টি নিজের দায়িত্বে নিয়ে বান্দাকে শুধু সিয়ামের কারণে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’*
সুবাহানআল্লাহ! আমাদের মধ্যে কেই বা আছে যে বলতে পারবে আমি অন্যের উপর জুলুম করি না। বাবা মার হক,স্বামী/স্ত্রীর হক,ছেলেমেয়েদের হক, আত্নীয়ের হক, প্রতিবেশীর হক, কলীগের হক , মুসলিম উম্মাহর হক---আরও কতই না হক যার কিছু আমরা গুরুত্ব দিবার চেষ্টা করি আর কিছু আছে যা আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করি না । আল্লাহ সুবহানাতা'আলা আমাদের সবার হিসাব সহজ করুন। আমিন।
* মুনযিরী, তারগীব ওয়াত তারহীব: ২/৭। অর্থাৎ সিয়াম দ্বারা জুলুমের ক্ষতিপূরন করবেন না। সেটাকে ব্যক্তির অক্ষয় আমল হিসেবে হেফাযত করবেন।
