This website is under development. Some features and content may not be fully available yet. Thank you for your patience and support.
রমাদান ধারাবাহিক | পর্ব ১৯
রমাদানের শেষ দশকের ইবাদত ও লাইলাতুল ক্বদর
RAMADAN
Umm Ayman
3/9/20261 min read
রমাদানের শেষ দশকের ইবাদত ও লাইলাতুল ক্বদর
রমাদানের শেষ দশদিনে রয়েছে বরকতময় লাইলাতুল ক্বদর। মহান আল্লাহ এ রাতকে মুবারক বলে গুণান্বিত করেছেন; কারণ এতে রয়েছে অসীম কল্যাণ, বরকত ও মর্যাদা। এ রাতের বরকতের অন্যতম কারণ হলো—এই বরকতময় রাতেই কুরআন নাযিল হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা এ রাতের মাধ্যমে উম্মতকে অফুরন্ত সাওয়াব ও কল্যাণ দান করে বিশেষ অনুগ্রহ করেছেন।
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সুস্পষ্ট কিতাব আল-কুরআনে এ রাতের মর্যাদা বিশেষভাবে উল্লেখ করে বলেছেন:
“নিশ্চয় আমরা এটা নাযিল করেছি এক মুবারক রাতে; নিশ্চয় আমরা সতর্ককারী। সে রাতে প্রত্যেক চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থিরকৃত হয়, আমাদের পক্ষ থেকে আদেশক্রমে, নিশ্চয় আমরা রাসূল প্রেরণকারী। আপনার রবের রহমতস্বরূপ; নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ-- আসমানসমূহ, যমীন ও এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর রব, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হও। তিনি ছাড়া কোন সত্য ইলাহ্ নেই, তিনি জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু ঘটান; তিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পিতৃপুরুষদেরও রব।” --সূরা আদ-দুখান, আয়াত: ৩-৮
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা এ রাতের গুণ বর্ণনা করে বলেন যে, এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ এ বছরে মানুষের রিযিক, আয়ু, ভাল-মন্দসহ যাবতীয় বিষয় আল্লাহর হিকমতপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস্তবায়নের জন্য ফেরেশতাদের নিকট অর্পণ করা হয়।
মহান আল্লাহ বলেন:
মহান আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয় আমরা কুরআন নাযিল করেছি ‘লাইলাতুল কদরে’; আর আপনাকে কিসে জানাবে ‘লাইলাতুল কদর’ কী? ‘লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফিরিশ্তাগণ ও রূহ্ নাযিল হয় তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে। শান্তিময় সে রাত, ফজরের আবির্ভাব পর্যন্ত।’ ---সূরা আল-ক্বদর, আয়াত: ১-৫]
ক্বদর শব্দটি সম্মান ও মর্যাদা অর্থে ব্যবহৃত হয়। আবার এর অপর অর্থ হলো তাকদীর নির্ধারণ ও ফয়সালা করা। কেননা ক্বদরের রাত অত্যন্ত সম্মানিত ও মহিমান্বিত রাত; এ রাতে আল্লাহ তা‘আলা এ বছর যা কিছু সংঘটিত হবে, সে সম্পর্কিত প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ফেরেশতাদের অবহিত করেন।
আর “কদরের রাত্রি হাজার মাসের চেয়ে উত্তম” কথাটির অর্থ হলো—ফযিলত, সম্মান এবং সাওয়াব ও পুরস্কারের দিক থেকে তা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। হাজার মাস প্রায় ৮৩ বছর ৪ মাসের সমান। তাই যে ব্যক্তি পূর্ণ ঈমান ও সাওয়াবের আশা নিয়ে এ রাতে সালাত (কিয়ামুল-লাইল) আদায় করবে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
আর “ফেরেশতা নাযিল হওয়া” এর অর্থ হলো: ফেরেশতাগণের অবতরণ; তারা আল্লাহর এক প্রকার বান্দা (SLAVE); যারা দিন-রাত আল্লাহর ইবাদতে রত থাকে। “তারা অহংকার-বশে তাঁর ‘ইবাদাত করা হতে বিমুখ হয় না এবং বিরক্তি বোধ করে না। তারা দিন-রাত তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে, তারা ক্লান্তও হয় না।” [সূরা আল-আম্বিয়া: ১৯-২০] তারা লাইলাতুল ক্বদরের কল্যাণ, বরকত ও রহমত নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন।
আর “রূহ” বলতে জিব্রাঈল ‘আলাইহিস সালামকে বুঝানো হয়েছে। মর্যাদা ও সম্মানের কারণে তাঁকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর “শান্তি বর্ষণ” করার অর্থ হলো: লাইলাতুল ক্বদর মুমিনদের জন্য যাবতীয় ভীতিপ্রদ বস্তু হতে শান্তির রাত; কারণ আল্লাহ তা‘আলা বহু লোককে এ রাত্রিতে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন, এর মাধ্যমে অনেকেই তাঁর আযাব থেকে মুক্তি নিরাপত্তা পায়।
আর “ফজর উদয় পর্যন্ত” এর অর্থ হলো: ক্বদরের রাতের পরিসমাপ্তি ঘটে ফজর উদয়ের মাধ্যমে; কারণ এর মাধ্যমে রাতের যাবতীয় কাজ শেষ হয়ে যায়।
লাইলাতুল কদর অবশ্যই রমযান মাসে । আল্লাহ তা‘আলা লাইলাতুল কদরের রাতেই কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। আবার তিনি নিজেই জানিয়েছেন যে কুরআন রমযান মাসে নাযিল হয়েছে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
“আর অবশ্যই আমরা এ কুরআনকে লাইলাতুল কদরে নাযিল করেছি”। --সূরা আল-কাদর: ১
আরও বলেন,
রমাদান এমন একটি মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।’--সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৫
এ থেকে স্পষ্টভাবে জানা যায় যে, পবিত্র লাইলাতুল কদর রমাদান মাসের মধ্যেই রয়েছে। আর এ রাতের ইবাদতের যে মহান সাওয়াব ও ফযীলত, তা এ উম্মতের জন্য কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে ইমাম আহমাদ ও নাসাঈ (রহ.) আবূ যর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে কদরের রাত সম্পর্কে বলুন—এটি কি শুধু রমাদানেই, নাকি অন্য কোনো মাসেও হতে পারে?”
উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা রমাদানেই রয়েছে।
এরপর আবূ যর আবার প্রশ্ন করলেন, তা কি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যত দিন জীবিত ততদিন অবশিষ্ট থাকবে, নাকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে?
উত্তরে তিনি বললেন, কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে।” --মুসনাদে আহমাদ ৫/১৭১
কিন্তু এ রাতের এ মহান মর্যাদা ও বৃহৎ পুরস্কার এ উম্মতের জন্যই নির্দিষ্ট। যেমন এ উম্মতকে জুম‘আর ফযীলতসহ আরও বহু বিশেষ মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে।
সুতরাং আল্লাহর জন্যই যাবতীয় প্রশংসা।
