This website is under development. Some features and content may not be fully available yet. Thank you for your patience and support.

রমাদান ধারাবাহিক | পর্ব ১৪

রমাদান কিভাবে আমাদের তাকওয়া অর্জনে সাহায্য করে

RAMADAN

Umm Ayman

3/4/20261 min read

রমাদান কিভাবে আমাদের তাকওয়া অর্জনে সাহায্য করে

রমাদান ধারাবাহিক —পর্ব ১২ ও পর্ব ১৩ এর আলোচনায় আমরা তাকওয়া শব্দটির ব্যাখ্যা এবং মুত্তাকী ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য ও মুত্তাকী হওয়ার কিছু উপায় সম্পর্কে জেনেছি।

তাকওয়া শব্দের অর্থ হলো—আল্লাহ তা‘আলার ভয়ে নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ থেকে দূরে থেকে ইসলাম নির্ধারিত পথে চলার আপ্রাণ চেষ্টা করা।

মুত্তাকী হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো—গুনাহের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আল্লাহকে স্মরণ করা; গুনাহের শাস্তির কথা স্মরণ করা এবং যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবে তার জন্য আল্লাহ যে পুরস্কারের ওয়াদা করেছেন তা স্মরণ করা। আর যদি গুনাহ হয়ে যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া ও তাওবা করা—এটিও মুত্তাকী ব্যক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

আমরা যেন তাকওয়া অর্জনে সফল হতে পারি, সেই জন্যই আল্লাহ তা‘আলা আমাদের ওপর সাওম ফরজ করেছেন এবং তাকওয়া অর্জনের পথকে সহজ করে দিয়েছেন।

রমাদান হচ্ছে তাকওয়া অর্জনের প্রশিক্ষণ মাস

ইনশাআল্লাহ আজ আমরা জানব—রমাদান কীভাবে আমাদের তাকওয়া অর্জনে সাহায্য করে।

১. শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়

রাসূল ﷺ বলেন:

“যখন রমাদান আসে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং দুষ্ট শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।” — সহীহ বুখারী, মুসলিম

“দুষ্ট শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়”—এর ফলে শয়তান অন্য মাসের মতো আল্লাহর নেককার বান্দাদের গোমরাহ করার সুযোগ পায় না। এ কারণে দেখা যায়, নেককার বান্দারা অন্য মাসের তুলনায় এই মাসে বেশি বেশি নেক আমলে উৎসাহী হয় এবং গুনাহ থেকে দূরে থাকে।

এটি আল্লাহ তা‘আলার বিশেষ মেহেরবানী যে, তিনি বান্দাদের চিরশত্রু শক্তিশালী শয়তানকে এই মাসে বন্দি করে রাখেন—যে শত্রু মানুষকে জাহান্নামের দিকে টেনে নিতে চায়।

সুতরাং যখন বড় শয়তান শৃঙ্খলাবদ্ধ, তখন আমাদের উচিত— ভালো কাজের পরিকল্পনা করা এবং নিজের খারাপ অভ্যাসগুলোর একটি তালিকা করা, যেগুলো আমরা জীবন থেকে বাদ দিতে চাই।

২. সিয়াম শয়তানের প্রভাব কমিয়ে দেয়

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের শিরায় শিরায় বিচরণ করে।” — বুখারী: ২০২৩, মুসলিম: ২১৭৫

সিয়ামের একটি হিকমত হলো—ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কারণে মানুষের শরীর দুর্বল হয় এবং রক্ত চলাচলের পথ কিছুটা সংকুচিত হয়। ফলে শয়তানের প্রভাবও দুর্বল হয়ে যায়। এ কারণে ক্রোধ ও কামপ্রবৃত্তির তীব্রতাও কমে আসে।

এ জন্যই রাসূলুল্লাহ ﷺ যুবকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন:

“হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহ করতে সক্ষম, সে যেন বিবাহ করে। কারণ এটি দৃষ্টি সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করে। আর যে বিবাহ করতে সক্ষম নয়, সে যেন সিয়াম পালন করে। কেননা সিয়াম তার জন্য ঢালস্বরূপ।”
— বুখারী: ১৯০৫; মুসলিম: ১৪০০

৩. ক্ষুধা অন্তরকে কোমল করে

তাবেঈ আবু সুলাইমান আদ-দারানী (রহ.) বলেন:

“যখন নফস ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত থাকে তখন অন্তর স্বচ্ছ ও কোমল থাকে। আর যখন খাবারে পরিপূর্ণ থাকে তখন অন্তর অন্ধ হয়ে যায়।”

রমাদানে আল্লাহ তা‘আলা শক্তিশালী শয়তানকে আটকে রেখেছেন, আর সিয়ামের কারণে আমাদের অন্তরও হয় কোমল।

সুতরাং তাকওয়া অর্জনের জন্য এখন আমাদের দায়িত্ব হলো— শুদ্ধভাবে সিয়াম পালন করা এবং রমাদানের পরেও যেন আমরা আল্লাহর ইবাদতে অবিচল থাকতে পারি সেই জন্য দোয়া করা।

আল্লাহ তা‘আলা শক্তিশালী শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রেখেছেন। সিয়াম পালনের কারণে আমাদের অন্তরও হয়ে ওঠে কোমল। একই সাথে সিয়াম পালনকারীদের জন্য আল্লাহ অসংখ্য পুরস্কারের সুসংবাদ দিয়েছেন।

সুতরাং তাকওয়া অর্জনে সফল হওয়ার জন্য এখন আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি। আর তা হলো—আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে শুদ্ধভাবে সিয়াম পালন করা এবং রমাদানের পরেও যেন আমরা একইভাবে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগীতে অবিচল থাকতে পারি সেই জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করা।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কেউ যদি কোনো কাজ টানা ৬ থেকে ২১ দিন নিয়মিতভাবে করতে থাকে, তাহলে সেই কাজটি ধীরে ধীরে তার অভ্যাসে পরিণত হয় এবং তার মনে গভীরভাবে গেঁথে যায়।

আল্লাহ তা‘আলা অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান। তিনি আমাদেরকে ৩০ দিনের এই রমাদান মাস দান করেছেন। তিনি জানেন—মানুষ স্বভাবগতভাবে দুর্বল। বিভিন্ন কারণে হয়তো কারো কয়েকটি সিয়াম বাদ যেতে পারে। তবুও যেন অধিকাংশ মানুষ অন্তত প্রায় ২১ দিনের বেশি সিয়াম পালনের সুযোগ পায় এবং নিজেকে সংশোধন করার সময় পায়।

আত্মশুদ্ধির জন্য রমাদানের মতো উত্তম ও উপযোগী সময় আর নেই। যদি আমরা রমাদানে নিজেকে পরিবর্তনের জন্য সচেষ্ট না হই, তবে আল্লাহর শপথ—কবে আমরা পরিবর্তিত হব?

কোনো নিশ্চয়তা কি আছে যে আমরা পরবর্তী রমাদান পর্যন্ত বেঁচে থাকব?

তাই আসুন, এই রমাদানকেই করি আমাদের জীবনের পরিবর্তনের সূচনা।