This website is under development. Some features and content may not be fully available yet. Thank you for your patience and support.

রমাদান ধারাবাহিক | পর্ব ১৩

মুত্তাকীদের বৈশিষ্ট্য

RAMADAN

Umm Ayman

3/3/20261 min read

মুত্তাকীদের বৈশিষ্ট্য

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

রামদান সিরিজ- ১২ এর আলোচনায় আমরা ইসলামিক পরিভাষায় তাকওয়া শব্দটির অর্থ জেনেছি। যিনি তাকওয়া অবলম্বন করেন তিনিই হলেন মুত্তাকী

তাহলে কী কী বৈশিষ্ট্যের দ্বারা মানুষ আল্লাহর কাছে মুত্তাকী বলে গণ্য হয়? মুত্তাকী কি সকল ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে? কখনো কোনো গুনাহ হয়ে গেলে কি মানুষের নাম মুত্তাকীদের তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়? আমাদের মতো গুনাহগার, যারা শয়তানের ধোঁকায় পড়ে গুনাহে লিপ্ত হয়ে যাই—তাদের পক্ষে কি মুত্তাকী হওয়া আকাশ-কুসুম কল্পনা? আমরা কিভাবে মুত্তাকী হতে পারি?

আজকের আলোচনা ইনশাআল্লাহ মুত্তাকীদের বৈশিষ্ট্য ও মুত্তাকী হওয়ার উপায় নিয়ে।

মুত্তাকি হলেন আল্লাহর ঐসকল বান্দা, যাদের অন্তরে আল্লাহ পাকের ভয় আছে এবং যারা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকেন। আল্লাহ তা'আলা কুরআনের বহু জায়গায় মুত্তাকিনদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। যেমন সূরা আল-আ‘রাফে আল্লাহ তা‘আলা বলেন—

إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَوْا إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفٌ مِنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوا فَإِذَا هُمْ مُبْصِرُونَ

“নিশ্চয়ই যারা আল্লাহকে ভয় করে—যখন তাদেরকে শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো কুমন্ত্রণা বা ওয়াসওয়াসা স্পর্শ করে, তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে; ফলে তাদের চোখ খুলে যায় এবং তাদের করণীয় স্পষ্ট হয়ে যায়।”—সূরা আল-আ‘রাফ: ২০১

উপরোক্ত আয়াতে আমাদের মতো গুনাহগারদের জন্য যেমন রয়েছে গভীর সান্ত্বনা, তেমনি রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। এতে মুত্তাকীদের একটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে—গুনাহের পরিস্থিতি তৈরি হলে মুত্তাকী আল্লাহকে স্মরণ করে।

আল্লাহকে স্মরণ করার দুটি পর্যায় রয়েছে।

প্রথম পর্যায়: গুনাহের আগে আল্লাহকে স্মরণ করা

আল্লাহকে স্মরণ করার প্রথম পর্যায় হলো—গুনাহের পরিস্থিতি তৈরি হলে আল্লাহকে স্মরণ করা, তাঁর সাহায্য চাওয়া এবং গুনাহে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকা।

গুনাহের পরিস্থিতি বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেমন ক্রোধের পরিস্থিতি। কারো প্রতি ক্রোধ জাগ্রত হয়েছে—এ অবস্থায় আল্লাহর ভয়ে সীমালঙ্ঘন থেকে বিরত থাকা মানুষের তাকওয়ার পরিচয় বহন করে।

বিখ্যাত তাবেয়ী ইমাম মুজাহিদ (রহ.) আলোচিত আয়াতের طَائِفٌ مِنَ الشَّيْطَانِ অর্থাৎ ‘শয়তানের কুমন্ত্রণা’ শব্দটিকে ক্রোধ দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন। ক্রোধ সংবরণ তাকওয়া অর্জনের একটি ক্ষেত্র।

আরেকটি উদাহরণ ধরা যাক। ধরুন, আপনি হিজাব করেন। আপনাকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। এখন আপনি দ্বিধায় পড়লেন—আপনি কি হিজাব ঠিকভাবে বজায় রাখবেন, নাকি অন্যদের মতো সাজগোজ করবেন?

আপনি হয়তো এমন এক বান্ধবীর সঙ্গে আলোচনা করলেন, যে হিজাব করে না। সে বলল, “আরে একদিনই তো! আজ না হয় হিজাব না করলেই হলো। শাড়ি পরেও তো হিজাব করে সাজা যায়।”

এই পরামর্শটি হয়তো আপনার ভালো লাগল। আপনি সুন্দর করে শাড়ি পরলেন, মেকআপ করলেন, মাথায় হিজাবের নামে একটি ঝলমলে কাপড় দিলেন, টিকলি পরলেন। সবাই বলল—“দেখো, হিজাব করেও কত সুন্দর সাজা যায়!”

কোন ভাই হয়তোবা আপনাকে দেখে খুশি হয়ে তার স্ত্রীকে অনুপ্রানিত করার জন্য বলল দেখ ভাবি কি সুন্দর পর্দা করে তুমিও ভাবির মত করতে পার।

প্রিয় বোন, মনে রাখতে হবে—শুধু মাথা ঢাকাই হিজাব নয়। হিজাবের কিছু শর্ত রয়েছে। হিজাব শব্দের অর্থ ঢেকে রাখা বা আড়াল করা (barrier বা partition)

তাই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করুন—
আপনি কি সত্যিই নিজের সৌন্দর্য পরপুরুষের কাছ থেকে ঢেকে রেখেছেন, নাকি আরও আকর্ষণীয়ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করছেন?

এমন পরিস্থিতিতে আল্লাহর সাহায্য চাইতে হবে এবং নিজের মনকে দৃঢ় করতে হবে। এতে আপনি যেমন আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন, তেমনি মানুষের কাছেও আপনার ব্যক্তিত্বের মর্যাদা বাড়বে।

এভাবে বিভিন্ন গুনাহের পরিস্থিতিতে আল্লাহর ভয়ে নিজেকে সংযত করার মধ্যেই তাকওয়ার পরিচয় পাওয়া যায়।

সংক্ষেপে বলা যায়—গুনাহের পরিস্থিতি তৈরি হলে আল্লাহকে স্মরণ করা এবং গুনাহ ত্যাগ করা তাকওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

দ্বিতীয় পর্যায়: গুনাহ হয়ে যাওয়ার পর আল্লাহকে স্মরণ করা

আল্লাহকে স্মরণ করার দ্বিতীয় পর্যায় হলো—গুনাহ হয়ে যাওয়ার পর আল্লাহকে স্মরণ করা।

সূরা আলে-ইমরানে আল্লাহ তা‘আলা মুত্তাকীদের গুণাবলী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন—

"এবং যারা কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া কে পাপ ক্ষমা করবে? আর তারা যা করে ফেলে জেনে বুঝে তাতে অটল থাকে না।’ -সূরা আলে ইমরান: ১৩৫

অতএব মুত্তাকী বান্দা কখনো গুনাহ করবে না—এমন নয়। সে ভুল করতে পারে, গুনাহ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু তার বৈশিষ্ট্য হলো—গুনাহ হয়ে গেলে তার অন্তরে অনুতাপ জাগে, আল্লাহর ভয় জাগে এবং সে উপলব্ধি করে যে সে তার সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে।

তখন সে স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে—তাকে ফিরে আসতেই হবে। তাই সে ব্যাকুল হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে যায়।

এটি মুত্তাকীদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

এদের জন্যই রয়েছে জান্নাতের সুসংবাদ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন—

وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ

"তোমরা নিজ প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং বেহেশতের দিকে ধাবিত হও, যে বেহেশতের বিস্তৃতি আসমান ও জমিনজুড়ে এবং যা ধর্মভীরুদের জন্যে (أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ) নির্মিত হয়েছে।" —সূরা আলে ইমরান: ১৩৩

রমাদান মাস তাওবা কবুলের সময়। আসুন আল্লাহর কাছে আমরা অতীত গুনাহসমূহের জন্য ক্ষমা চাই। আল্লাহর কাছে দুয়া করি আল্লাহ চোখের পলকের জন্য হলেও আপনি আমাকে আমার খেয়াল খুশির উপর ছেড়ে দিবেন না, আমাকে আপনার সন্তুষ্টি অনুযায়ী চলার তাওফিক দান করুন।

আমিন।