This website is under development. Some features and content may not be fully available yet. Thank you for your patience and support.

রমাদান ধারাবাহিক | পর্ব ১২

রমাদান: তাকওয়া অর্জনের মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ

RAMADAN

Umm Ayman

3/1/20261 min read

রমাদান: তাকওয়া অর্জনের মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

সিয়াম পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা। ইনশাআল্লাহ পরের কয়েক সিরিজে আমরা তাকাওয়া কি, মুত্তাকিদের বৈশিষ্ট্য ও রমাদান কিভাবে আমাদের তাকওয়া অর্জনে সাহায্য করে এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।

সিয়ামের উদ্দেশ্য: তাকওয়া

আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেমনি ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের ওপর, যাতে তোমরা মুত্তাকী (তাকওয়া অর্জনকারী) হতে পারো।’ —সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৩

এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয়— রোজার চূড়ান্ত লক্ষ্য শুধু গরিবের ক্ষুধা-তৃষ্ণা উপলব্ধি করা নয়; বরং তাকওয়া অর্জন করা।গরিবের কষ্ট অনুভব করা অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।ইসলাম আমাদের সহমর্মী, দানশীল ও মানবিক হতে শেখায়। কিন্তু কুরআন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে সিয়ামের মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা।

তাকওয়ার গুরুত্ব

পবিত্র কুরআনের বহু আয়াতে তাকওয়ার কথা এসেছে। রসুল (সা:) যখনই খুতবা শুরু করতেন, তাকওয়া সম্বলিত আয়াত সমূহ প্রথমে পাঠ করতেন। এ থেকে বুঝা যায় ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে তাকওয়ার গুরুত্ব কত ব্যাপক।

সূরা মরিয়ামে আল্লাহ বলেন,

“সে জান্নাতের উত্তরাধিকারী আমি অবশ্য তাদেরকে বানাব, আমার বান্দাদের মধ্যে যারা তাকওয়ার অধিকারী।”’

—সূরা মরিয়াম, ৬৩

তাকওয়া কী?

‘তাকওয়া’ শব্দটি ইসলামের একটি মৌলিক পরিভাষা। এর আভিধানিক অর্থ হল-সচেতনতা, জবাবদিহীতা, সচ্ছতা, বিরত থাকা ও সাবধান থাকা। যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেন, “তোমরা সে আগুন থেকে বেঁচে থাক, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর।” [সুরাতুল বাকারা,২৬]

কখনও তাকওয়া শব্দকে বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে ‘খোদাভীতি’ দিয়ে এবং ইংরাজীতে Fear of God দিয়ে। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন,

“হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর।” —সুরা হজ্জ:০১

সুতরাং দেখা যাচ্ছে, তাকওয়া শব্দটি আভিধানিক ভাবে দুটি অর্থ ধারণ করে। এক, আত্মরক্ষা, বেঁচে থাকা, বিরত থাকা ও মুক্ত থাকা। দুই,ভয়-ভীতি তথা কোন প্রকার অনিষ্ট ও ক্ষতিকর বিষয় থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার চিন্তা মিশ্রিত ভয়।

ইসলামী শরীআতের পরিভাষায় তাকওয়া অর্থ হল, আল্লাহ্‌ তাআলার ভয়ে নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ হতে দূরে থেকে ইসলাম নির্ধারিত পথে চলার আপ্রাণ চেষ্টা করা।

তাকওয়ার সুন্দর উপমা

উমর (রাঃ) একবার কা‘ব (রাঃ)-কে তাকওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রশ্ন করেন—

“আপনি কি কখনও কণ্টকময় পথে হেঁটেছেন?”

উমর (রাঃ) বললেন হ্যাঁ

কা‘ব (রাঃ) বললেন, “তখন কীভাবে হেঁটেছেন?”

তিনি বললেন, “আমি খুব সতর্কভাবে কাপড় গুটিয়ে হেঁটেছি, যেন কোন ভাবেই কাঁটার আঘাতে কাপড় ছিঁড়ে না যায় অথবা শরীরে না বিঁধে।"

তখন কা‘ব (রাঃ) বললেন—
এটাই তাকওয়া।

রমাদান আমাদের শিখায়— আত্মসংযম এবং আল্লাহ-সচেতনতা।

যদি আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হালাল খাবার, পানীয় ও বৈধ চাহিদা থেকেও নির্দিষ্ট সময় বিরত থাকতে পারি, তবে হারাম থেকে বিরত থাকাও আমাদের জন্য সম্ভব। এটাই রোজার প্রশিক্ষণ।

প্রকাশ্যে পাপ বর্জন করাই তাকওয়া নয়;
বরং গোপনে ও প্রকাশ্যে সব ধরনের পাপ থেকে দূরে থাকাই প্রকৃত তাকওয়া।
যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তুমি যেখানেই থাকনা কেন আল্লাহকে ভয় কর।” [তিরমিযী]

আমরা রমাদানের দিতীয় দশকে পৌঁছেছি । এখন একটু থেমে নিজের দিকে নজর দেওয়ার সময়—

  • আল্লাহ যে আমাকে দেখছেন, সেই সচেতনতা কি কিছুটা হলেও বেড়েছে?

  • এই কয়েকদিনে কি আমার অন্তর আগের চেয়ে নরম হয়েছে?

  • রমাদানের জন্য যে পরিকল্পনা করেছিলাম, সেটা কি বাস্তবায়িত হচ্ছে?

  • গোপন গুনাহ কমেছে, নাকি আগের মতোই আছে?

  • সালাত, কুরআন, যিকিরে মনোযোগ বেড়েছে কি?

  • রাগ, হিংসা, অহংকার—এগুলো কি কিছুটা হলেও কমেছে?

এই মূল্যায়ন আমাদেরকে বাকি রমাদান আরও ফলপ্রসূ করতে সাহায্য করবে। আল্লাহ আমাদেরকে প্রকৃত মুত্তাকী বানান। আমিন।