This website is under development. Some features and content may not be fully available yet. Thank you for your patience and support.

রমাদান ধারাবাহিক | পর্ব ১১

দ্বীন, দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য রসূল ﷺ-এর দুআ

RAMADAN

Umm Ayman

2/28/20261 min read

দ্বীন, দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য রসূল ﷺ-এর দুআ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ।

রমাদানের এই দুআ কবুলের মৌসুমে, নিজের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে দুআ করার পাশাপাশি আমরা রসূল ﷺ শেখানো দুআগুলো করতে পারি। সবচেয়ে উত্তম দুআ হলো রসূল ﷺ-এর শেখানো দুআ— কারণ সেগুলো সবচেয়ে বেশি সমন্বিত ও পরিপূর্ণ; তাতে দুনিয়া ও আখিরাতের সব কল্যাণ অন্তর্ভুক্ত থাকে।

আজ আমরা এরকম একটি সুন্দর ও সমন্বিত দুআ নিয়ে আলোচনা করবো— যা দ্বীন, দুনিয়া ও আখিরাতের সব কল্যাণকে একত্রে ধারণ করে।

আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ নিম্নলিখিত দুআটি করতেন—

اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِي دِينِي الَّذِي هُوَ عِصْمَةُ أَمْرِي ، وَأَصْلِحْ لِي دُنْيَايَ الَّتِي فِيهَا مَعَاشِي ، وَأَصْلِحْ لِي آخِرَتِي الَّتِي فِيهَا مَعَادِي
وَاجْعَلِ الْحَيَاةَ زِيَادَةً لِي فِي كُلِّ خَيْرٍ وَاجْعَلِ الْمَوْتَ رَاحَةً لِي مِنْ كُلِّ شَرٍّ

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা আস্বলিহ লী দীনিয়াল্লাযী হুয়া ইস্‌মাতু আমরী, ওয়া আস্বলিহ লী দুনয়া-য়্যাল্লাতী ফীহা মাআ-শী, ওয়া আস্বলিহ লী আ-খিরাতিয়াল্লাতী ফীহা মাআ-দী। ওয়াজআলিল হায়া-তা যিয়া-দাতাল লী ফী কুল্লি খাইর। ওয়াজআলিল মাউতা রা-হাতাল লী মিন কুল্লি শার্‌রি।

অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার দ্বীনকে সুন্দর কর, যা আমার সকল কর্মের হিফাযতকারী। আমার পার্থিব জীবনকে সুন্দর কর, যাতে আমার জীবিকা রয়েছে। আমার পরকালকে সুন্দর কর, যাতে আমার প্রত্যাবর্তন হবে। আমার জন্য হায়াতকে প্রত্যেক কল্যাণে বৃদ্ধি কর এবং মওঁতকে প্রত্যেক অকল্যাণ থেকে আরামদায়ক কর। —সহীহ মুসলিম

এখন আমরা দুআটি নিয়ে একটু আলোচনা করি—

“ আমার দ্বীনকে সুন্দর কর, যা আমার সকল কর্মের হিফাযতকারী। ”

প্রথমেই দুআ করা হচ্ছে আমাদের দ্বীন (ইসলাম)-কে সুন্দর করার জন্য। কারণ ইসলামই হলো সবকিছুর মূল ভিত্তি। ইসলাম শব্দের অর্থই হলো submission — আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ। যে ব্যক্তি যত বেশি নিজের ইচ্ছাকে আল্লাহর আদেশ-নিষেধের কাছে সঁপে দিতে পারে, সে তত বেশি সফল।

এই কারণেই রাসূল ﷺ মু‘আয (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু)-কে বলেছিলেন:

“আমি কি তোমাকে দ্বীনের মূল বিষয়, তার স্তম্ভ ও তার চূড়া সম্পর্কে জানাবো না?”
তিনি বললেন, “জি হ্যাঁ।”
তিনি বললেন, “সমস্ত বিষয়ের মূল হলো ইসলাম।”
— জামি আত-তিরমিযি

ইসলাম কেবল জুমা বা রমাদানের জন্য নয়; বরং ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহের ৭ দিন— সর্বদা অনুসরণের বিষয়।আল্লাহ বলেন:
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলামে প্রবেশ কর।” —সূরা বাকারা ২:২০৮

“ আমার পার্থিব জীবনকে সুন্দর কর, যাতে আমার জীবিকা রয়েছে।"

আল্লাহ তা‘আলা আমাদের এই পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি (খলিফা) হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তাই একজন মুসলিম দুনিয়া থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় না। ইসলাম কখনো দুনিয়া ত্যাগ করে পাহাড়-জঙ্গলে চলে যেতে বলে না। আমরা দুনিয়া থেকে জীবিকা গ্রহণ করি, পরিবার গড়ি, কাজ করি— কিন্তু আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য আখিরাত।

"আমার পরকালকে সুন্দর কর, যাতে আমার প্রত্যাবর্তন হবে।"

আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য আখিরাত। জান্নাতই আমাদের প্রকৃত ঠিকানা। মুমিনরা যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, ফেরেশতারা বলবে: “................এটি কতই না উত্তম পরিণামের আবাস!” — সূরা আর রা'দ, ১৩:২৪

অন্যদিকে জাহান্নামবাসীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে: “..............তাদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্ট আবাস।” (১৩:২৫)

“আমার জন্য হায়াতকে প্রত্যেক কল্যাণে বৃদ্ধি কর”

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“সর্বোত্তম মানুষ সে, যার জীবন দীর্ঘ এবং যার আমল ভালো।”
— জামি আত-তিরমিযি

শাইখ ইবন উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
যদি কেউ আল্লাহর আনুগত্যে দীর্ঘ জীবন লাভ করে, তবে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। কারণ প্রতিটি নেক আমল তাকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে। তবে দীর্ঘ জীবন তখনই কল্যাণকর, যখন তা ইবাদতে ব্যয় হয়।

“আমার মৃত্যুকে প্রত্যেক অকল্যাণ থেকে আরামদায়ক কর। ”

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো স্বস্তি। আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূল ﷺ এর সামনে দিয়ে একটি জানাযাহ্ বহন করা হচ্ছিল তিনি ﷺ (জানাযাহ্ দেখে) বললেন, এ ব্যক্তি (mustarīḥ مُسْتَرِيحٌ) শান্তি পাবে, অথবা এর থেকে অন্যরা শান্তি (mustarāḥ مُسْتَرَاحٌ) পাবে। সাহাবীগণ নিবেদন করলেন, হে আল্লাহর রসূল! শান্তি পাবে কে, অথবা ওই ব্যক্তি কে যার থেকে অন্যরা শান্তি পাবে? তিনি ﷺ বললেনঃ আল্লাহর মু’মিন বান্দা মৃত্যুর দ্বারা দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট হতে আল্লাহর রহমতের দিকে অগ্রসর হয়। ফলে সে শান্তি (mustarīḥ) পায়। আর গুনাহগার বান্দা মারা গেলে তার অনিষ্ট ও ফাসাদ হতে মানুষ, শহর-বন্দর গাছ-পালা ও জন্তু-জানোয়ার সবকিছুই শান্তি লাভ করে। — বুখারী, মুসলিম
মৃত্যুর সময় মুমিন আল্লাহর সন্তুষ্টির সুসংবাদ পায়। তাই সে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ভালোবাসে, আর আল্লাহও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ভালোবাসেন।

আল্লাহ বলেন:
“নিশ্চয় যারা বলে, ‘আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ,’ এবং এরপর অটল থাকে— তাদের উপর মৃত্যুকালে ফেরেশতারা অবতীর্ণ হয় এবং বলে: ভয় করো না, দুঃখ করো না; তোমাদের জন্য রয়েছে জান্নাতের সুসংবাদ।” —ফুসসিলাত, ৪১:৩০

উপরোক্ত দু‘আটিতে দ্বীন, দুনিয়া, আখিরাত, জীবন ও মৃত্যু— সবকিছুর কল্যাণ একত্রে চাওয়া হয়েছে।

রমাদানের এই বরকতময় সময়ে এমন দুআগুলো আমাদের বেশি বেশি করা উচিত, কারণ এগুলো রসূল ﷺ নিজে করতেন এবং আমাদের শিখিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের দ্বীনকে সঠিক রাখুন, দুনিয়াকে বরকতময় করুন এবং আখিরাতকে সফল করুন। আমীন।